28th, January, 2022, 5:02 pm

ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের পরিকল্পনা

নিজস্ব প্রতিনিধি : বিদ্যুৎ উৎপাদনে বর্তমানে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বেশি জোর দেয়া হচ্ছে। সেজন্য দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প নেয়া হচ্ছে। কিন্তু জমিস্বল্পতা বৃহৎ ও বাণিজ্যিকভাবে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে জমির ব্যবহার কমাতে বিকল্প হিসেবে ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ বা ‘ফ্লোটিং সোলার টেকনোলজি’ স্থাপনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। বর্তমানে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে দেশে দৈনিক ৭৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। আর নবায়নযোগ্য উৎসগুলোর মধ্যে সৌরবিদ্যুৎই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে। প্রতি মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রায় ৩ একর জমির প্রয়োজন পড়ে। কিন্তু জনবহুল দেশে বৃহৎ পরিসরে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে পর্যাপ্ত অকৃষি, অনাবাদি ও পতিত ভূমি পাওয়া কঠিন। ফলে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন এই প্রযুক্তির কথা ভাবছে সরকার। বিদ্যুৎ বিভাগ সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) দেশের ৩টি স্থানে ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই করেছে।

দেশের তিনটি জেলা দিনাজপুর, ঝিনাইদহ ও যশোরে মোট ৬১ মেগাওয়াট সক্ষমতার ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প করা গেলে সাফল্য পাওয়া যাবে বলে সমীক্ষায় উঠে এসেছে। তাছাড়া এডিবি পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটির কাপ্তাই লেকে ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের সম্ভাব্যতাও যাচাই করেছে। ওই স্থানটিকেও বৃহৎ ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের উপযুক্ত স্থান হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। সাধারণত সৌর থেকে এক ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে এখনো ৩০ টাকার মতো খরচ হয়। ওই পদ্ধতিতে বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনে গেলে জমির মূল্য, উন্নয়ন, সৌরবিদ্যুতের উপকরণ, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ ব্যয় এবং মেয়াদ হিসাব করে বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ বেশি হয়। ভাসমান পদ্ধতিতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে ভূমির চেয়ে ৩ থেকে ৫ শতাংশ খরচ বেশি হয়। মূলত জলাশয়ের ওপর সোলার প্যানেল বসানোর অবকাঠামো তৈরিতেই বেশি ব্যয় হয়। তবে বৃহৎ আকারে বিনিয়োগ করা গেলে খরচ কমে আসবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছে।

তবে দেশে এখনো ভাসমান সৌর প্রকল্প-সংক্রান্ত বড় ধরনের কোনো প্রকল্প নেয়া হয়নি। বাগেরহাটের মোংলায় ১০ কিলোওয়াট সক্ষমতার একটি ভাসমান সৌর প্রকল্প রয়েছে। ২০১৯ সালে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনায় ওই প্রকল্পটি নির্মাণ করা হয়। নেট মিটারিং ব্যবহার করে সেখানকার পানি পরিশোধনাগারে ওই বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হচ্ছে। ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বিষয়ে এডিবির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে বেশকিছু ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। তবে পাহাড়ি এলাকায় বৃহৎ আকারে এমন ধরনের প্রকল্পে পরিবেশগত ছাড়পত্র পাওয়ার জটিলতা রয়েছে। স্রেডার সৌরবিদ্যুতের রোডম্যাপের খসড়া অনুযায়ী সারা দেশে নবায়নযোগ্য শক্তি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য সম্ভাব্য জায়গা হিসেবে ১২টি স্থানের ৩ হাজার ৯০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছে। ওসব জায়গা দেশের বিভিন্ন নদণ্ডনদীর তীরবর্তী। ওসব এলাকা কাজে লাগিয়ে অন্তত ১২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া সম্ভব। তার মধ্যে সৌরবিদ্যুতের সম্ভাব্যতাই বেশি। বিশ্বে জাপান ভাসমান সোলার প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রথম বিদ্যুৎ উৎপাদন চালু করে। ওই পথ অনুসরণ করে ইতালি, স্পেন, কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন তেমন ধরনের প্রকল্প গ্রহণ করে।

এমনকি প্রতিবেশী দেশ ভারতও ২০১৮ সালে মধ্যপ্রদেশে ২৫ মেগাওয়াট সক্ষমতার একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করে। এদিকে বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বৃহদায়তন সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের সম্ভাবনা নিয়ে আরো জরিপ প্রয়োজন। কারণ নদীমাতৃক দেশ হিসেবে এমন ধরনের প্রকল্পে ব্যাপক সম্ভাবনা থাকলেও সারা বছর পানি থাকে এমন জায়গা আগে চিহ্নিত করতে হবে। অন্যদিকে এ বিষয়ে টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (স্রডো) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলাউদ্দিন জানান, ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ নিয়ে স্রডো ফিজিবিলিটি স্টাডি করেছে। সারা দেশে কোথায় কোথায় এ ধরনের প্রকল্প নেয়া যেতে পারে তার একটা প্রি-ফিজিবিলিটি স্টাডি করা হয়েছে। তাছাড়া বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানির আওতাধীন এলাকায় পরিপূর্ণভাবে একটি ফিজিবিলিটি স্টাডি করা হয়েছে। ওখানে ৫০ মেগাওয়াট সক্ষমতার একটি ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ধরনের প্রকল্পে আশাব্যঞ্জক সম্ভাবনা রয়েছে। তবে প্রকল্প শেষ না করা পর্যন্ত বলা যাবে না তা কতোটুকু উপযোগী হবে।

Facebook Notice for EU! You need to login to view and post FB Comments!

Comments are closed.

     More News Of This Category

follow us on facebook page