আজ [bangla_date], [english_date]

৬০ টাকা হাজিরার কাজ করে শত কোটি টাকার মালিক সোবহান

মীর আলাউদ্দিন : অবিশ্বাস্য হলেও সত্য দৈনিক ৬০ টাকা হাজিরার বেতনের কাজ করে কয়েক বছরের মধ্যে শত শত কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন ঢাকার তেজগাঁও মোহাম্মদপুর সাব রেজিস্ট্রি অফিসের একজন উমেদার। আব্দুস সোবহান নামের ওই উমেদার দৈনিক ৬০ টাকা হাজিরা বেতনের কাজ করে কোটি কোটি টাকা আয়সহ একাধিক সম্পদ অর্জন করেছেন। তার দুর্নীতি প্রসংঙ্গ এবং সম্পদ আয় নিয়ে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা চলছে তার কর্মস্থলে। একজন প্রথম শ্রেণী সরকারি কর্মকর্তার মাসে যদি ৫ লাখ টাকা বেতন হয় তাতেও এমন আকাশ ছোঁয়া সম্পদ হওয়ার সম্ভাবনা নেই। কিন্তু সেখানে আবদুস সোবহান দৈনিক ৬০ টাকা বেতনের কর্মচারী হয়ে একাধিক বহুতলা বাড়ি, ফ্লাট, গাড়ি, দেশের বিভিন্ন স্থানে সম্পদের মালিক বনে গেছেন। তার এমন অস্বাভাবিক সম্পদের ইতিহাস জেনে রীতিমতো ভড়কে গেছে দেশের বড় বড় দূর্নীতিবাজরাও। অভিযোগ উঠেছে, ঢাকা তেজগাঁও রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সে মোহাম্মদপুর সাব রেজিস্ট্রি অফিসের উমেদার আব্দুস সোবহান সেখানে এক ধরনের ত্রাসের রাজরাজত্ব কায়েম করে রেখেছে। দীর্ঘদিন ধরে সাব রেজিস্ট্রার অফিসে কাজের সুবাদে বিভিন্ন দলিল দাতা-গ্রহিতা ও দলিল লেখকদের জিম্মি করে প্রতিদিন হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। এমন কি পে-অর্ডারের মাধ্যমে সরকারি টাকাও আত্মসাৎ করে। টাকার বিনিময়ে সরকারি নথি থেকেও পৃষ্ঠা উধাও করারও অভিযোগও রয়েছে সোবহানের বিরুদ্ধে। বিভিন্ন মানুষকে মোটা টাকা দিয়ে উমেদার আব্দুস সোবহান মোহাম্মদপুর সাব রেজিস্ট্রি অফিসে দীর্ঘ ২২ বছর ধরে একই জায়গা দখল করে আছে। আর সেখানেই চলে তার সীমাহীন অনিয়ম দুর্নীতি।

আরো পড়ুন : বাংলা মদ বিক্রেতা আব্বাস এখন কোটিপতি আওয়ামী নেতা

সোবহানের ঘনিষ্ঠ সুত্রে জানা যায়, আব্দুস সোবহান রেজিস্ট্রি অফিসের সহকারী, পিওন ও নকল নবীশদের নানাভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে জিম্মি করে রেখেছে। ফলে তার বিরুদ্ধে কেউ কোন কথা বলার সাহস করেনা। সোবহানের কথা না শুনলে যে-কোন অফিসার তৎক্ষনাৎ বদলী করার ক্ষমতা রাখে সে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সাব রেজিস্ট্রার বলেন, অফিসে তার ভীষন দাপট, টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন গ্রাহকের সাথে নয় ছয় করে টাকা হাতিয়ে নেয় আমরা জেনেও তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিতে গেলে উল্টো আমরাই তার ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে পড়ি। সোবহানের অনৈতিক কার্যক্রমের বিষয়ে সবাই অবগত রয়েছে কিন্ত তার রাজনৈতিক ও স্থানীয় প্রভাব থাকায় অফিসের অনেক অফিসারও ভয়ে থাকে। স্থানীয় ও সোহবানের পরিচিত কয়েজন বলেন, প্রায়ই ২৫ বছর পূর্বে এই আব্দুস সোবহান রেজিস্ট্রি অফিসের সামনে দাঁড়িয়ে বাদাম বিক্রি করতো। তখন ঢাকা জেলার এক রেজিস্ট্রারের একজন টাইপিষ্টকে মোটা অংকের টাকা দিয়ে মোহাম্মদপুর অফিসের উমেদারির কাজ পায়। এর পরই থেকে আর সোবহানকে পিছে ফিরে তাকাতে হয়নি। সোবহান নানা ভাবে সেবা নিতে আসা মানুষ জনকে হয়রানী করে, এ ছাড়াও জমির শ্রেনী পরিবর্তন করে দুর্নীতির মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়া শুরু করে। একটি সুত্র বলছে, জমির নামজারি খাজনা খারিজসহ জমির যেকোনো সমস্যা সমাধানের জন্য অবৈধ উৎকোচ গ্রহণ করেন সোবহান।

আরো পড়ুন : সুন্দরী নারীদের ভয়ঙ্কর ফাঁদ-ব্ল্যাকমেইলিংয়ে জড়িত প্রায় ৭০০০ শিক্ষিত-স্মার্ট-সুন্দরী তরুণী

এসব অভিযোগে উমেদার সোবহানকে ঢাকার বাহিরে বদলী করা হয়। কথিত আছে ৫০ লক্ষ টাকা ঘুষের বিনিময়ে মোহাম্মদপুর সাব রেজিস্ট্রি অফিসেই থেকে যান সোবহান। ২০ বছর ধরে মোহাম্মদপুরে সাব রেজিস্ট্রি অফিসে যত সাব রেজিস্ট্রার যোগদান করেছেন তাদের সাথে সোবহান নানা কৌশলে গভীর সম্পর্ক গড়ে তোলেন। কারণ সাব রেজিস্ট্রারের নামে প্রতিদিন আদায়কৃত কয়েক লাখ ঘুষের টাকা সন্ধ্যার পর সাব-রেজিস্টারের বাসায় পৌছে দেয় সোবহান। বর্তমানে সাব রেজিস্ট্রারদের সাথে ঘুষ লেনদেনের গভীর সখ্যতায় অফিসে বেপরোয়া হয়ে উঠছেন এই সোবহান। সোবহান এভাবে দীর্ঘ ২২ বছর উমেদারীর কাজ করে কোটি কোটি টাকা অবৈধভাবে উপার্জন করে। যেখানে দেশের প্রধানমন্ত্রী ১০ টাকায় টিকিট কেটে সরকারি হাসপালের চিকিৎসা নেন সেখানে দৈনিক ৬০ টাকা বেতনের অস্থায়ী কর্মচারী উমেদার সোবহান তার স্ত্রীকে চিকিৎসার নামে ঘন ঘন বিদেশে পাড়ি দেন। শতশত কোটি টাকার মালিক হওয়ার বিষয় নিয়ে সোবহানের বক্তব্যর জন্য তার মুঠো ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয় নি। সোবহানের বিভিন্ন স্থানে নামে বেনামে সম্পদের বিবরণ ও তার বিভিন্ন অপকর্মের ইতিহাস জানুন আগামী পর্বে।

আরো পড়ুন : ভয়ঙ্কর অপরাধী যখন জনপ্রতিনিধি

Comments are closed.

     More News Of This Category

follow us on facebook page