11th, August, 2022, 9:14 am

হাজার হাজার মামলার তদন্তে স্থবিরতা

নিজস্ব প্রতিনিধি : করোনা প্রাদুর্ভাবের চলমান পরিস্থিতিতে পুলিশের পক্ষে যথাযথভাবে হাজার হাজার মামলার তদন্ত করা সম্ভব নয়। করোনাভাইরাসের কারণে পুলিশের বিভিন্ন সংস্থার কাছে থাকা মামলাগুলোর তদন্ত কাজ অনেকটাই থেমে গেছে। বিশেষ করে পুরোনো মামলাগুলোর তদন্তে নজরই দেয়া যাচ্ছে না। এমনকি আলোচিত অনেক মামলার তদন্ত গতিহীনও হয়ে পড়েছে। আবার অনেক মামলার তদন্ত কর্মকর্তাও করোনায় আক্রান্ত। সেজন্য তদন্ত সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো থেকে পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগে মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমার হারও কমে গেছে। আর যেগুলো জমা পড়ছে তাও প্রসিকিউশন বিভাগের সংম্লিষ্ট জিআরও দপ্তরে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। কারণ আদালতে বিচার কার্যক্রম স্বাভাবিক না হওয়ায় তা জমা দেয়া যাচ্ছে না। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। সারাদেশে পুলিশ সদস্যরা করোনাভাইরাস মোকাবিলায় কোনো না কোনোভাবে যুক্ত রয়েছে। বেশির ভাগ সদস্যকেই মাঠপর্যায়ে কাজ করতে হচ্ছে। পুলিশের আরেকটা অংশ সাইবার অপরাধ ঠেকাতে তৎপর রয়েছে। ফলে পুরোনো মামলাগুলোর তদন্ত কিছুটা গতি হারিয়েছে। কারণ প্রতিটি মামলার তদন্তে বেশ কিছু বিষয় থাকে। মামলা দায়েরের পর অনেক সূক্ষè কাজের মধ্য দিয়ে তদন্ত পরিপূর্ণ রূপ নেয়। তদন্ত কর্মকর্তাকে আলামত সংগ্রহ, ঘটনাস্থল পরিদর্শন, সাক্ষী ডাকা, আসামি গ্রেপ্তার করা থেকে শুরু করে আনুষঙ্গিক সবকিছু করতে হয়। তবে করোনা পরিস্থিতিতে মামলার তদন্তের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজটি ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পুলিশের তদন্তাধীন কোনো মামলার কাজই সেভাবে এগিয়ে নেয়া যাচ্ছে না। ফলে বিভিন্ন ইউনিটে হাজার হাজার মামলার তদন্তে একরকম জট বেঁধে গেছে। তাতে বাদী-বিবাদী পক্ষের ন্যায়বিচার পেতে বিলম্ব হচ্ছে। বিশেষ করে মামলার বাদীরা অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। করোনা পরিস্থিতিতে নতুন মামলা দায়ের করার সংখ্যাও কমেছে। গত মার্চ মাসে সারাদেশে মামলা হয়েছে ১৭ হাজার ৭৪৫টি। এপ্রিলে ৯ হাজার ৯৫টি এবং মে মাসে ১১ হাজার ৫০৫টি। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ঢাকা মহানগর পুলিশে মামলা হয় ২ হাজার ২৪৭টি। ফেব্রুয়ারিতে ওই সংখ্যা ছিল দুই হাজার ১৩১টি। মার্চে দুই হাজার ৫৯। এপ্রিলে মাত্র ৩৪৯টি। বর্তমানে তদন্তের ক্ষেত্রে ডিজিটাল অংশটির কাজ বেশি হচ্ছে। পাশাপাশি হত্যা, ছিনতাই, ডাকাতি, ধর্ষণ, মানব পাচারের মতো গুরুতর ফৌজদারি অপরাধের ঘটনায় দায়ের করা মামলায়ও অনেকটা ঝুঁকি নিয়েই পুলিশ অপারেশন চালাচ্ছে। তবে স্বাভাবিক সময়ে যতো দ্রুত কাজটি হতো, করোনার কারণে এখন কিছুটা বেশি সময় লাগছে। কারণ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের অনেক সদস্য করোনায় আক্রান্ত। অনেকে আইসোলেশনে রয়েছে। আর তদন্ত এমন এক বিষয়- যা ডিজিটালি চালিয়ে নেয়া সম্ভব নয়। এমন অবস্থায় করোনা পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনেই মামলার তদন্ত চালানোর কথা ভাবতে হবে। এদিকে মামলার তদন্ত প্রসঙ্গে পুলিশের দায়িত্বশীর কর্মকর্তারা বলছেন, ফৌজদারি অপরাধ সংঘটিত হলে থানায় মামলা হচ্ছে, আসামি গ্রেপ্তার হচ্ছে এবং এসব আসামিকে আদালতে হাজিরও করা হচ্ছে। তবে মামলার তদন্ত কাজ অন্য সময়ের মতো স্বাভাবিকভাবে করা সম্ভব হচ্ছে না। এখন করোনা পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে মামলার তদন্ত চালানোর কথাও ভাবতে হতে পারে। এ প্রসঙ্গে ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম জানান, মামলার তদন্ত করতে গেলে আসামি গ্রেপ্তার থেকে শুরু করে সাক্ষ্য নেয়াসহ অনেক কাজ থাকে। তাতে অনেক মানুষের কাছাকাছি যেতে হয়। তদন্ত কার্যক্রম ডিজিটালি চালানোর সুযোগ কম। তবে এখনও যদি কোনো ডেডবডি পাওয়া যায়, সেটির তো ময়নাতদন্ত করতেই হচ্ছে। গুরুত্ব বিবেচনায় ঝুঁকি নিয়েই বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেক মামলারই তদন্ত চলছে। সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম বিভাগের প্রধান ডিআইজি ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, এখন তদন্তের মূল কার্যক্রম বন্ধ। তবে মামলার দাপ্তরিক কিছু কাজ থাকে। যেটা ঘরে বসেই করা যায়। সেটি অব্যাহত রয়েছে। এ প্রসঙ্গে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) প্রধান ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার জানান, করোনাভাইরাসের এই সময়টাতে তদন্ত কাজে বেশ সমস্যা হচ্ছে। কারণ তদন্ত করতে গেলে মানুষের কাছাকাছি যেতে হয়, সশরীরে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হয়। বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পিবিআই আপাতত ছোটখাটো মামলার ক্ষেত্রে টেলিফোনের মাধ্যমে সাক্ষীদের বক্তব্য নেয়া যায় কিনা তার আইনি দিক ও বাস্তবতা খতিয়ে দেখছে। তবে এমন অনেক গুরুত্বপূর্ণ মামলা রয়েছে, যেখানে সশরীরে গিয়েই তদন্ত করতে হয়। সে ক্ষেত্রে কিছুটা বিঘœ ঘটছে। এই সময়ে অনেক সাক্ষীকে ডাকলেই পাওয়া যায় না। তবে ডকুমেন্টেশনসহ ফাইলওয়ার্ক চলছে, তদন্তের ডিজিটাল দিকটাতে আপাতত বেশি জোর দেয়া হচ্ছে।

Comments are closed.

     More News Of This Category

follow us on facebook page