November 25, 2020, 2:02 am

হঠাৎ বড়লোকেই দেশের সর্বনাশ

বিশেষ প্রতিনিধি : হঠাৎ ক্রােড়পতি হয়ে ওঠা লোকগুলোই সমাজ ও রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় আপদ। উৎসহীন বেশুমার টাকার গরমে তারা সমাজ, দল ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন স্তরে নানারকম বিশৃঙ্খলার সূত্রপাত ঘটানোর যোগ্যতা অর্জণ করে। সর্বত্রই প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ গড়ে তোলে, অসম লড়াই বাধানোর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। পাহাড়সম অর্থবিত্ত দিয়েই আপদ মার্কা লোকগুলো সমাজের কর্তৃত্ব কিনে নেয়, টাকা ছিটিয়েই দখল করে দলীয় পদ পদবী। রাতারাতি তারা এমপি, মন্ত্রী এমনকি আরো আরো প্রতাপশালী মানুষের কাছাকাছি পৌঁছে যায়। ফলে সবকিছুকেই তারা তুচ্ছ তাচ্ছিল্যতা প্রদর্শণ করতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করে না। হঠাত দাপুটে হয়ে ওঠা লোকগুলো সব অসম্ভবকেই সম্ভবে পরিনত করার মধ্য দিয়ে কী এক বিকৃত আনন্দবোধ করে।অনুসন্ধান সূত্রে জানা যায়, হঠাত বড়লোক বা কোটি কোটি টাকার মালিক বনে যাওয়ার বৈধ কোনো উপায় নেই বাংলাদেশে। যদি লাইগ্যা যায় মার্কার লটারী ব্যবস্থাও নেই। আছে- রাতারাতি অলৌকিক কায়দায় আলাদীনের মতো আশ্চর্য জাদুর প্রদীপ লাভ করা, “ম্যাগনেটিক পিলার” কিংবা তক্ষক লেনদেনের বাণিজ্য, ঠিকাদারী ব্যবসা চালানো, ইয়াবা বাণিজ্যে অংশগ্রহণ আর সর্বত্তোম পথ হিসেবে রয়েছে তদবিরবাজীর দাপুটে বাণিজ্য। তবে অলৌকিতার বাইরে রাতারাতি অগাধ টাকার মালিক হওয়ার সার্বজনীন পথ একটাই-তা হলো ‌’ঠিকাদারী বাণিজ্য। ‘ ক্ষমতাসীন দলের সুগন্ধী দেহে লাগিয়ে, নানা ধূর্ততা, কুটকৌশল আর বহুমুখী প্রতারণাকে পুঁজি করে চোখের সামনেই কোটি কোটি টাকা লুটে নেয়ার নামই হচ্ছে ঠিকাদারী।  আসলেই ঠিকাদারী ব্যবসাটা হচ্ছে আজব এক বাণিজ্য! তারা সরকারের নানা সেক্টরে কাজ করলেও কোনো জবাবদিহীতা নেই, কোনো নিয়ন্ত্রণ আরোপ হয় না, যেমন খুশি তেমন ভাবেই লুটপাট চালানো যায়-বরং এ ক্ষেত্রে সরকারের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা লুটপাটের কর্মকান্ডে সব ধরনের সহায়তা করে থাকে। চারপাশে একটু চোখ মেলে তাকিয়ে দেখুন তো- হঠাত বড়লোক হওয়া লোকগুলো কারা? মিঠু-জি.কে শামীম থেকে শুরু করে শাহেদ করিম পর্যন্ত অজ্ঞাত ক্ষমতাধারী লোকগুলোর মূল বাণিজ্যটি কি? তাহলে কী দাঁড়ালো-ঠিকাদারী কর্মকান্ড মানেই কী অবাধ লুটপাটের আসর ? হঠাত বড়লোক হওয়ার সহজ পথ ? ঠিকাদারী বাণিজ্যের লাগাম টানতে আমার কাছে একটা ফর্মুলা খুবই কার্যকর হতে পারে বলে মনে করি। ফর্মুলাটা হলো: ঠিকাদারীর কাজ যে সংস্থার নিয়ন্ত্রণেই প্রদান করা হোক বা না হোক সেটা কোনো ব্যাপার নয়-তবে টেন্ডার কাজটি চুড়ান্তভাবে বুঝে নেয়ার দায়িত্ব থাকবে বাংলাদেশ সেনা বাহিনীর। তাতে দেখবেন ঠিকাদারী কাজে আকাশসম লাভ আর বিনা কাজে বিল তুলে নেয়ার ঘটনা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে। ফলে রাতারাতি হঠাত ক্রোড়পতি হওয়ার ধারাবাহিকতাও থমকে দাঁড়াতে বাধ্য। মেধাবুদ্ধি আর নেটওয়ার্ক মেইনটেন করেই নিমিষে কোটিপতি, শত কোটিপতি হয়ে ওঠার আরেকটি নিশ্চিত পথ হলো ইয়াবা বাণিজ্য। প্রধানমন্ত্রীর কঠোর ভূমিকায় সম্প্রতি এ ব্যবসা চালানো কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কতিপয় দুর্বৃত্ত কর্মকর্তার সমন্বয়েই চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়িরা নির্বিঘ্নে ইয়াবার বাণিজ্য চালাতে সক্ষম হচ্ছেন। অর্থ্যাত যেসব মাদক ব্যবসায়ি থানা পুলিশের সেই কর্মকর্তার সঙ্গে লাভ সমবন্টনে চুক্তিবদ্ধ হচ্ছেন তারা এখনো প্রতিটি এলাকায় অবাধে ইয়াবা বাজারজাত করে চলছেন। বখড়া আদায়ের পরিবর্তে পুলিশের পার্টনারশিপ বাণিজ্যের কারণেই ইয়াবা সেক্টরে হঠাত কোটিপতি হওয়ার জোয়ার অনেকটাই থেমে গেছে। কিন্তু এর আগেই ইয়াবার কল্যাণে চাল-চুলোহীন পাঁচ শতাধিক লোক শত কোটিপতিতে পরিনত হয়েছেন, আর ক্রোড়পতি হয়ে উঠেছেন অন্তত তিন হাজার ক্ষুদে বিক্রেতা।  তবে কোটিপতি হওয়ার দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে আছে তদবিরবাজীর বাণিজ্য। ধোপদুরস্ত পোশাক পরিচ্ছদ, চলনে বলনে ওভারস্মার্ট- সবকিছুর উপরে একটা মুজিবকোর্ট জড়াতে পারলেই সোনায় সোহাগা। রেকারী দল-উপদলে পদ-পদবী থাকুক না থাকুক তাতে কোনো সমস্যা নেই। কখনও একা, কখনও দল বেধে সরকারি দপ্তরে দপ্তরে, ব্যক্তি মালিকানার কারখানা কিংবা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হাজির হয়েই বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, নেত্রীর অযাচিত প্রশংসা আর দলের জন্য নিজের কল্পিত ত্যাগের বুলি আউড়িয়ে রীতিমত তোলপাড় সৃষ্টি করেন। কোনো জনসভা, মিছিলে অংশ নেয়ার কিংবা নেতার সঙ্গে ছবি তোলা থাকলে তো কথাই নেই। বার বার তা মোবাইল স্ক্রীনে প্রদর্শন করেই তদবিরের আসল বাণিজ্যে নেমে পড়েন এসব ধান্ধাবাজ। আগে শুধু নিয়োগ, পদোন্নতি, পোস্টিং নিয়ে টুকিটাকী তদবির চালালেও সাম্প্রতিক সময়ে তাদের তদবিরবাজীরও ধরন পাল্টেছে। এখন তারা জামায়াত-বিএনপির নেতা যারা মামলায় মামলায় জর্জরিত হয়ে বছরের পর বছর পালিয়ে বেড়াচ্ছে-তাদেরকে সরাসরি ক্ষমতাসীন দল-উপদলের ভাইটাল নেতা বানিয়ে দেয়ার মতো ভয়ঙ্কর তদবির করে চলছেন। আবার দলের অচেনা অজানা সাধারণ কর্মি সমর্থককে ওয়ার্ড, থানা, জেলা কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন করা, বিভিন্ন পর্যায়ের নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন এনে দেয়ার তদবিরবাজীতেও ব্যস্ত থাকছে চক্রটি। এসব কাজে সফল হোক বা না হোক লাখ লাখ টাকা পকেটস্থ করে দিব্যি আলীশান জীবন যাপন করে চলে তদবিরবাজরা।
========
রাষ্ট্রের কল্যাণ নিয়ে যারা একমুহূর্তও ভাবেন, দেশের আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতির উন্নয়ন চান মনেপ্রাণে, যারা চান সাধারণ মানুষের দুঃসহ যন্ত্রণাময় ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটুক- তারা চুপিসারে হলেও একটা দায়িত্ব পালন করুন প্লীজ। আপনার চারপাশে হঠাৎ করেই অস্বাভাবিক ধনপতি হয়ে উঠা ব্যক্তিবর্গের টুকিটাকি তথ্যটুকু আমাদের জানান। প্রয়োজনে তথ্যদাতার সবরকম পরিচয় গোপন রাখতে আমরা অঙ্গীকারাবদ্ধ থাকছি

আপনার জানামতে কি ছিলেন তিনি, এখন আছেন কেমন পর্যায়ে? তার ধনাঢ্য হওয়ার জানা/আজানা সূত্রটি কী বলে মনে করেন।

এ তথ্যসূত্র ধরেই অনুসন্ধান চালিয়ে তৈরি হবে অন্যরকম শ্বেতপত্র। এর ভিত্তিতে আয়ের বৈধ উৎসহীন “হঠাৎ বড়লোক”দের সহায় সম্পদ বাজেয়াপ্তের জন্য মামলা-রীট সবই সম্ভব হবে রাষ্ট্রের কল্যাণে।

সকল যোগাযোগ: 01757-551144-bdrimu@gmail.com

Please share it ..
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মোট আক্রান্ত

৪৫০,৬৪৩

সুস্থ

৩৬৪,৯১৬

মৃত্যু

৬,৪২০

  • জেলা সমূহের তথ্য
  • ঢাকা ১৩৬,৮৩৩
  • চট্টগ্রাম ২৩,২২২
  • বগুড়া ৮,৪৪৮
  • কুমিল্লা ৮,২৯০
  • সিলেট ৮,০৭৫
  • ফরিদপুর ৭,৬৬১
  • নারায়ণগঞ্জ ৭,৫২৬
  • খুলনা ৬,৭৯১
  • গাজীপুর ৬,০২২
  • কক্সবাজার ৫,৩৬৮
  • নোয়াখালী ৫,২০৩
  • যশোর ৪,২৯৩
  • বরিশাল ৪,২০৯
  • ময়মনসিংহ ৩,৯৮৮
  • মুন্সিগঞ্জ ৩,৮৮৭
  • দিনাজপুর ৩,৮৬২
  • কুষ্টিয়া ৩,৫১৮
  • টাঙ্গাইল ৩,৪৩৩
  • রংপুর ৩,৩২৫
  • রাজবাড়ী ৩,২২১
  • কিশোরগঞ্জ ৩,১৮৩
  • গোপালগঞ্জ ২,৭৭২
  • নরসিংদী ২,৫৭০
  • ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২,৫৫৬
  • চাঁদপুর ২,৪৯৯
  • সুনামগঞ্জ ২,৪৩৬
  • সিরাজগঞ্জ ২,৩২৭
  • লক্ষ্মীপুর ২,২২০
  • ঝিনাইদহ ২,১৬২
  • ফেনী ২,০৩৭
  • হবিগঞ্জ ১,৮৭১
  • মৌলভীবাজার ১,৮১২
  • শরীয়তপুর ১,৮১০
  • জামালপুর ১,৭১১
  • মানিকগঞ্জ ১,৬০৯
  • পটুয়াখালী ১,৫৬৮
  • চুয়াডাঙ্গা ১,৫৬০
  • মাদারীপুর ১,৫২৯
  • নড়াইল ১,৪৭১
  • নওগাঁ ১,৪০০
  • ঠাকুরগাঁও ১,৩১১
  • গাইবান্ধা ১,২৮৭
  • পাবনা ১,২৮২
  • নীলফামারী ১,১৮২
  • জয়পুরহাট ১,১৭৭
  • সাতক্ষীরা ১,১২৫
  • পিরোজপুর ১,১২২
  • নাটোর ১,১০২
  • রাজশাহী ১,০৮৫
  • বাগেরহাট ১,০১৪
  • মাগুরা ৯৮৯
  • রাঙ্গামাটি ৯৮৪
  • বরগুনা ৯৭৭
  • কুড়িগ্রাম ৯৫১
  • লালমনিরহাট ৯১১
  • ভোলা ৮৫৮
  • বান্দরবান ৮২৯
  • চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৮০১
  • নেত্রকোণা ৭৬৭
  • ঝালকাঠি ৭৫৮
  • খাগড়াছড়ি ৭২২
  • পঞ্চগড় ৭১০
  • মেহেরপুর ৬৯১
  • শেরপুর ৫১১
ন্যাশনাল কল সেন্টার ৩৩৩ | স্বাস্থ্য বাতায়ন ১৬২৬৩ | আইইডিসিআর ১০৬৫৫ | বিশেষজ্ঞ হেলথ লাইন ০৯৬১১৬৭৭৭৭৭ | সূত্র - আইইডিসিআর | স্পন্সর - একতা হোস্ট

Comments are closed.

     More News Of This Category

follow us on facebook page