28th, July, 2021, 1:48 pm

সিনিয়র জেল সুপারের প্রশাসনিক দায়িত্বহীনতায় কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার হয়ে উঠে
জেলারের একক সাম্রাজ্য

সাঈদুর রহমান রিমন : দেড় মাস আগের নির্যাতনের ওই ঘটনার ভিডিও বাইরে ছড়িয়ে দেয়ার অপরাধে শুক্রবার তিন কারারক্ষীকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে কারা কর্তৃপক্ষ। একইসঙ্গে কেস টেবিলে এনে লঘু শাস্তির নামে বিদেশি বন্দিকে বেধড়ক পেটানোর ঘটনায় দুইজন কারারক্ষীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের সিনিয়র জেল সুপার শাহজাহান আহমেদ জানান, এক বছর ধরে কারাগারে মাদক সেবনের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। এ সময় সহকারী প্রধান কারারক্ষী তরিকুল ইসলামকে ৫২২ পিস ইয়াবাসহ আটক করা হয়। বর্তমানে তিনি জেলে আছেন। তরিকুলের সহযোগী হিসেবে চিহ্নিত কারারক্ষী শরিফুল ইসলাম, অনন্ত চন্দ্র দাশ ও চরণ চন্দ্র পাল এ নির্যাতনের ভিডিও বাইরে পাঠান, এ অভিযোগে তিনজন সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন।
কারাগারের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিলাসের ওয়ার্ডে ১৫ এপ্রিল মাদক পাওয়ার ঘটনায় ১২ মে তাকে কেস টেবিলে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ভাইরাল হওয়া জিজ্ঞাসাবাদের ভিডিওতে দেখা যায়, দুই হাত পিছমোড়া করে বেঁধে একজনকে পেটাচ্ছেন কয়েকজন। পিটুনির শিকার শাহজাহান বিলাস ভারতের পশ্চিম ত্রিপুরা রাজ্যের দুর্গাপুর গ্রামের আবদু মিয়ার ছেলে। তিনি ডাকাতি ও হত্যা মামলার ৫৮ বছরের সাজাপ্রাপ্ত। গত ২৬ বছর ধরে তিনি কুমিল্লা কারাগারে বন্দি রয়েছেন। নির্যাতনের ওই ঘটনার ভিডিও দেড় মাস পর ভাইরাল হওয়ার ঘটনায় ১ জুলাই চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার শফিকুল ইসলাম খানকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া কারাগারের জেল সুপার ইকবাল হোসেন ও ফেনী জেলা কারাগারের জেলার শাহাদত হোসেন মিঠু। তাদের সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
বাস্তবতা হলো
=====
সিনিয়র জেল সুপার শাহজাহান আহমেদ এর প্রশাসনিক ঢিলেমিতে একক সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিলেন জেলার আসাদুজ্জামান। এই কর্মকর্তা একটি পদক প্রাপ্তির পর থেকে ধরাকে সরা জ্ঞ্যান করে চলতেন। ১৬ এপ্রিল কুমিল্লা কারাগারে একজন বিদেশি বন্দী নির্যাতনের ঘটনায় ৪ জুলাই কেন তদন্ত টিম গঠন হলো? ১২ এপ্রিল আইজি প্রিজনকে দেয়া তথ্য ফরমে কী বিদেশি বন্দী নির্যাতনের বিষয়ে কোনো নোট দেয়া হয়নি? প্রত্যেক কারাগারে অবস্থান করা বিশেষ গোয়েন্দা সোর্সও কী তাকে নির্যাতন বিষয়ক কোনো তথ্য জানাননি? অবশ্যই জানিয়েছে, কিন্তু তিনি তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি এমনকি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের সুরক্ষা বিভাগকেও তা অবহিত করার প্রয়োজনবোধ করেননি।
ভাইরাল হওয়া নির্যাতনের ঘটনায় শুধু কারারক্ষী নয়, সিনিয়র জেল সুপার ও জেলারের নামেও অভিযোগ উঠেছে। তাদের উপস্থিতি ও নির্দেশনাতেই ওই নির্মমতা চালানো হয়। অথচ তাদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ তদন্তের জন্য সমমর্যাদার কর্মকর্তাদের নিয়ে তদন্তকারী টিম গঠনের বিষয়টি হাস্যকর হয়ে দাঁড়ালো কী না? কুমিল্লা কারাগারে বিদেশি বন্দি নির্যাতনের লজ্জাকর ঘটনায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের সুরক্ষা বিভাগের তত্বাবধানে কমপক্ষে ডিআইজি পদমর্যাদার কর্মকর্তার সমন্বয়ে তদন্ত টিম হওয়া উচিত বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
Please share this news ..
  •  
  •  
  • 288
  •  
    288
    Shares
  •  
    288
    Shares
  • 288
  •  

Comments are closed.

     More News Of This Category

follow us on facebook page