28th, July, 2021, 1:47 pm

সরকারবিরোধী বড় বিক্ষোভ কিউবায়

ডেস্ক সংবাদ :  কিউবার কমিউনিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ করেছেন দেশবাসী। । বিক্ষোভ হয়েছে রাজধানী হাভানাসহ বড় বড় শহরে। সরকারকে স্বৈরাচার আখ্যায়িত করে তারা স্লোগান দিতে থাকে ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক’। এ সময় বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ মরিচের গুঁড়া ছুড়েছে এবং প্রহার করেছে কিছু বিক্ষোভকারীকে। এ খবর দিয়ে অনলাইন বিবিসি বলছে, করোনা মহামারি মোকাবিলা নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে রয়েছে তাদের ক্ষোভ। কয়েকদিনে রেকর্ড সংখ্যক মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। দেশে অর্থনীতি ধসে যাওয়ায় দেশবাসী ক্ষুব্ধ। একই সঙ্গে সেখানে নাগরিকদের স্বাধীনতায় বিধিনিষেধ রয়েছে বলে তাদের দাবি।  বিক্ষোভ থেকে দ্রুততার সঙ্গে করোনার টিকা দেয়ার দাবি জানানো হয়।

গত বছর কিউবার রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত অর্থনীতির পতন হয় শতকরা ১১ ভাগ। তিন দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে এটাই সবচেয়ে বড় পতন। করোনা মহামারি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের দেয়া অর্থনৈতিক অবরোধ পরিস্থিতিকে আরো সঙিন করে তুলেছে। ১৯৫৯ সালে কমিউনিস্ট বিপ্লবের মধ্য দিয়ে দেশটিতে কমিউনিস্ট শাসনে আসে। সেই বিপ্লবকে সমর্থন জানাতে জাতির উদ্দেশে টেলিভিশনে বক্তব্য রাখেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল ডিয়াজ-ক্যানেল। এর পরপরই সরকারপন্থি কয়েক হাজার সমর্থক রাজপথে বেরিয়ে পড়েন। প্রেসিডেন্ট তার বক্তব্যে বলেন, দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে দুর্বৃত্তদের ভাড়া করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তার এমন বক্তব্যের পর সমর্থকরা রাজপথে ঝাঁঝালো বিক্ষোভ করেন এবং বিপ্লবী সাড়া দেয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

লাতিন আমেরিকা বিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কূটনীতিক জুলি চুং টুইটে বলেছেন, কিউবার ভিতরে লড়াইয়ের আহ্বানে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। কিউবার জনগণের শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকারের পক্ষে আমাদের অবস্থান। আমরা শান্ত থাকার আহ্বান জানাই এবং নিন্দা জানাই সহিংসতার। ওদিকে রাজধানী হাভানার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে সান অ্যান্তোনিও ডে লোস বানোস শহরে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পরই তা ছড়িয়ে পড়ে সারাদেশে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এর বেশির ভাগই সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। এতে বিক্ষোভকারীদেরকে সরকার এবং প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ করতে দেখা যায়। তারা সরকারে পরিবর্তন দাবি করে। আলেজান্দ্রো নামে একজন বিক্ষোভকারী বলেছেন, আমাদের সামনে এমন সময়, যা আর আমরা টেনে নিতে পারছি না। কোনো খাবার নেই। ওষুধ নেই। নেই কোনো স্বাধীনতা। তারা আমাদেরকে বাঁচতে দিচ্ছে না। আমরা এরই মধ্যে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যেসব ছবি প্রকাশ পেয়েছে তাতে দেখা যায়, নিরাপত্তা রক্ষাকারীরা বিক্ষোভকারীদের আটক করছে এবং অনেককে প্রহার করছে। আরেকটি পোস্টে দেখা যায়, পুলিশের ওপর চড়াও হয়েছে তারা। রাষ্ট্র মালিকানাধীন কিছু দোকানপাট লুট করছে। অনেক কিউবান শুধু এসব দোকান থেকেই তাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে পারেন। তাও দাম নেয়া হয় অনেক বেশি। করোনা ভাইরাস মহামারিতে টিকার সংকট নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা। দেশটিতে রোববার একদিনে প্রায় ৭০০০ মানুষ আক্রান্ত ও ৪৭ জন মারা যাওয়ার রেকর্ড করেছে। মহামারি শুরুর পর থেকে সেখানে কমপক্ষে ১৫০০ মানুষ মারা গিয়েছেন।

Please share this news ..
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Comments are closed.

     More News Of This Category

follow us on facebook page