15th, August, 2022, 1:46 am

শ্রীঘই কাটছে না দেশের গ্যাস সঙ্কট

নিজস্ব প্রতিনিধি : শ্রীঘই দেশের গ্যাস সঙ্কট কাটছে না। বর্তমানে যে হারে গ্যাস উত্তোলন হচ্ছে তাতে ২০৩০ সাল নাগাদ গ্যাসের অভ্যন্তরীণ মজুদ ন্যূনতম পর্যায়ে নেমে আসবে। গত ২০২০-২১ অর্থবছরে দেশে দৈনিক চাহিদার বিপরীতে স্থানীয় সরবরাহের ১৮৮ কোটি ঘনফুট ঘাটতি ছিল। ২০২৫ সাল নাগাদ তা বেড়ে ৩৯০ কোটি ঘনফুট হবে। আর ২০৩০ সালে ওই ঘাটতি আরো বেড়ে ৫৫৮ কোটি ঘনফুটে দাঁড়াবে। ঘাটতি মেটাতে কয়েক বছর আগে থেকেই গ্যাস আমদানি শুরু করা হয়েছে। বর্তমানে সংকটের তীব্রতায় রেশনিং করতে হচ্ছে। বিশ্ববাজারে গ্যাসের মূল্যের অস্থিতিশীলতায় এ ব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা সহসাই কাটার কোনো সম্ভাবনা নেই। জ্বালানি বিভাগ এবং পেট্রোবাংলা সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

স্থানীয় উৎপাদন কমে আসায় সংকটের কারণে বিভিন্ন সময় সার কারখানা ও গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখতে হয়েছে। একই কারণে এখন সিএনজি ফিলিং স্টেশনে ৬ ঘণ্টা করে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখতে হচ্ছে। আর বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিতে সম্প্রতি দৈনিক ৪ ঘণ্টা গ্যাস ব্যবহার না করতে শিল্প-কারখানাগুলোকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। বর্তমানে গ্যাসের ক্রমবর্ধমান চাহিদার পাশাপাশি দ্রুতই স্থানীয় মজুদ ফুরিয়ে আসছে। নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত না হওয়ায় ও আমদানি সরবরাহ না বাড়ায় গ্যাস নিয়ে ইতিমধ্যে শিল্প উদ্যোক্তাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আর জ্বালানি বিভাগ বলছে, আগামীতে আমদানীকৃত গ্যাস দিয়েই শিল্প খাত পরিচালিত হবে।

গ্যাসের বিদ্যমান সরবরাহ ব্যবস্থাপনা অনুযায়ী বর্তমানে স্থানীয় মজুদ যে হারে কমছে তাতে আগামী এক দশক পর দেশে গ্যাস চাহিদার ৮৫ শতাংশ আমদানি করে মেটাতে হবে। কয়েক বছর ধরেই গ্যাসের চাহিদার একটি অংশ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির মাধ্যমে পূরণ করতে হচ্ছে। তবে বিদ্যমান গ্যাস সরবরাহ সংকট পরিস্থিতির জন্য মূলত বিদ্যমান এলএনজির অবকাঠামো ও বৈশ্বিক বাজারদরই দায়ী। ফলে দেশে গ্যাস সরবরাহে বর্তমান পরিস্থিতিতে তার চেয়ে বেশি সরবরাহ বাড়ানোর সুযোগ নেই। বৈশ্বিক জ্বালানি উচ্চমূল্য, স্থানীয় সরবরাহ সংকট এবং আমদানির বিদ্যমান সরবরাহ সক্ষমতায় বর্তমানে গ্যাস সরবরাহ এ রকমই থাকবে। তবে নতুন করে গ্যাসক্ষেত্র এবং এলএনজি সরবরাহের অবকাঠামো নির্মাণ করার পর নতুন গতি আসতে পারে। সূত্র আরো জানায়, বর্তমানে দেশে দৈনিক ৪৫০ কোটি ঘনফুটের মতো গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। স্থানীয় উৎস ও এলএনজি দিয়ে মোট ৩১০ কোটি ঘনফুটের কিছু বেশি সরবরাহ হচ্ছে।

কভিড মহামারীর শুরু থেকে চাহিদা ও সরবরাহে ১৪০ কোটি ঘনফুটের মতো গ্যাসের ঘাটতি রয়েছে। ২০২০-২১ অর্থবছরে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনে মোট গ্যাসের ৪১ দশমিক ৮১ শতাংশ ব্যবহার হয়েছে। তারপর ক্যাপটিভে সবচেয়ে বেশি ১৬ দশমিক ৬১ শতাংশ ব্যবহার হয়েছে। আবাসিকে ১৩ দশমিক ১৮ শতাংশ ও শিল্পে ১১ দশমিক ৮৬ শতাংশ গ্যাস ব্যবহার হয়েছে। সার উৎপাদনে গ্যাসের ব্যবহার হয়েছে ৬ দশমিক ৩৫ শতাংশ। ৩ দশমিক ৪৪ শতাংশ গ্যাসের ব্যবহার সিএনজিতে ছিল। বাকি গ্যাস বাণিজ্যিক ও অন্যান্য খাতে ব্যবহার হয়েছে। সূত্র আরো জানায়, গত অর্থবছরে দেশে গ্যাসের দৈনিক গড় চাহিদা ছিল ৪৩০ কোটি ঘনফুট। তার মধ্যে স্থানীয় উত্তোলন ও আমদানীকৃত এলএনজি মিলিয়ে সরবরাহ হয়েছে ৩০১ কোটি ঘনফুট। ওই হিসাবে চাহিদার বিপরীতে দৈনিক সরবরাহের ঘাটতি ছিল প্রায় ১৩০ কোটি ঘনফুট। আমদানীকৃত এলএনজির সরবরাহ বাদ দিলে গত অর্থবছরে স্থানীয় গ্যাসের দৈনিক ঘাটতি ছিল প্রায় ১৮৮ কোটি ঘনফুট।

দেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাপনা ঠিক রাখতে প্রতিদিন ১৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন। কিন্তু তার বিপরীতে ১০০-১১০ কোটি ঘনফুটের মতো সরবরাহ হচ্ছে। প্রতিনিয়ত চাহিদা-সরবরাহে ঘাটতি থাকছে ৪০-৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাস। গ্যাসের সরবরাহ কমে গেলেই বিদ্যুতে তার প্রভাব ব্যাপক হারে লক্ষ্য করা যায়। প্রতি বছর উৎপাদনমুখী শিল্প খাত বাড়ছে, অন্যান্য শিল্প-কারখানা বাড়ছে। ওসব জায়গায় বিদ্যুতের ব্যাপক চাহিদা তৈরি হচ্ছে। কিন্তু ওই তুলনায় গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানো যায়নি। গ্যাসের উৎপাদন ও আমদানি না বাড়লে আগামীতে সরবরাহ ব্যবস্থাপনা ঠিক রাখতে রেশনিং একমাত্র বিকল্প ব্যবস্থা। এদিকে বর্তমানে দেশে ৬৫টি গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মোট উৎপাদন সক্ষমতা ১১ হাজার ৪৫০ মেগাওয়াট। গ্যাস সংকটের কারণে বর্তমানে ৩৩টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। সেগুলোর মোট সক্ষমতা প্রায় সাড়ে ৫ হাজার। গ্যাস সংকটে ২০১২ সাল থেকে ২১০ মেগাওয়াট সক্ষমতার নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি বন্ধ রয়েছে। তাছাড়া ১০০ মেগাওয়াট সক্ষমতার হরিপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্রটিও ২০২০ সাল থেকে বন্ধ রয়েছে। গ্রীষ্ম ও সেচ মৌসুমের পাশাপাশি রমজানের কারণে এখন বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে। দেশে বিদ্যুতের চাহিদা এখন ১৪ থেকে সাড়ে ১৪ হাজার মেগাওয়াট। তবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, চাহিদা ব্যাপক হারে বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা ঠিক রাখতে রেশনিং করা হচ্ছে। আশা করা যায় রমজান ও সেচ মৌসুম শেষ হলে বিদ্যুতের চাহিদা কমে আসবে। তখন সব খাতে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে। অন্যদিকে জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থাপনা বর্তমানে নাজুক অবস্থায় এসে পৌঁছেছে। শিল্প খাতে গ্যাসে যে রেশনিং করা হচ্ছে তা অর্থনীতির জন্য একটি খারাপ দিক। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের পথ সরকারকে খুঁজে বের করতে হবে।

তবে এ মুহূর্তে গ্যাস সরবরাহ সক্ষমতা বাড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। দেশে নতুন কোনো গ্যাসক্ষেত্র এবং এলএনজি নতুন কোনো অবকাঠামো তৈরি করা না গেলে এ সরবরাহ দিয়েই চলতে হবে। তাছাড়া জ্বালানির বৈশ্বিক যে দর তাতে উচ্চমূল্যে এলএনজি কেনারও পর্যাপ্ত অর্থ নেই। ফলে চলতি মৌসুমে এ সরবরাহ সক্ষমতা দিয়েই চলতে হবে। মূলত বিদ্যুতের অতিরিক্ত চাহিদা তৈরি হওয়ার কারণে গ্যাসের ওপর বাড়তি চাপ পড়েছে। তবে বিদ্যুৎ সরবরাহ ঠিক রাখতে সরকার বিভিন্ন খাতে রেশনিং করছে। রোজার পরে শিল্প খাতে রেশনিং উঠে গেলেও সিএনজি খাতে থাকবে। কারণ সেখানে গ্যাসের বড় একটি অংশ সরবরাহ করা হয়। তবে দীর্ঘমেয়াদে রেশনিং ব্যবস্থায় যেতে হবে কিনা তা দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন আকস্মিকভাবে কমে যাওয়ার ওপর নির্ভর করছে। এ বিষয়ে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান নাজমুল আহসান জানান, দেশে জাতীয় গ্রিড লাইনে যে গ্যাস সরবরাহ হচ্ছে সেটিই সর্বোচ্চ সক্ষমতা। নতুন টার্মিনাল না আসা পর্যন্ত পেট্রোবাংলার আমদানি সরবরাহ বাড়ানো যাবে না। আগামী দু-এক বছরের মধ্যে এলএনজির তৃতীয় টার্মিনাল সরবরাহ লাইনে নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে।ই দেশের গ্যাস সঙ্কট কাটছে না। বর্তমানে যে হারে গ্যাস উত্তোলন হচ্ছে তাতে ২০৩০ সাল নাগাদ গ্যাসের অভ্যন্তরীণ মজুদ ন্যূনতম পর্যায়ে নেমে আসবে। গত ২০২০-২১ অর্থবছরে দেশে দৈনিক চাহিদার বিপরীতে স্থানীয় সরবরাহের ১৮৮ কোটি ঘনফুট ঘাটতি ছিল। ২০২৫ সাল নাগাদ তা বেড়ে ৩৯০ কোটি ঘনফুট হবে। আর ২০৩০ সালে ওই ঘাটতি আরো বেড়ে ৫৫৮ কোটি ঘনফুটে দাঁড়াবে। ঘাটতি মেটাতে কয়েক বছর আগে থেকেই গ্যাস আমদানি শুরু করা হয়েছে। বর্তমানে সংকটের তীব্রতায় রেশনিং করতে হচ্ছে। বিশ্ববাজারে গ্যাসের মূল্যের অস্থিতিশীলতায় এ ব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা সহসাই কাটার কোনো সম্ভাবনা নেই। জ্বালানি বিভাগ এবং পেট্রোবাংলা সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, স্থানীয় উৎপাদন কমে আসায় সংকটের কারণে বিভিন্ন সময় সার কারখানা ও গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখতে হয়েছে। একই কারণে এখন সিএনজি ফিলিং স্টেশনে ৬ ঘণ্টা করে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখতে হচ্ছে। আর বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিতে সম্প্রতি দৈনিক ৪ ঘণ্টা গ্যাস ব্যবহার না করতে শিল্প-কারখানাগুলোকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। বর্তমানে গ্যাসের ক্রমবর্ধমান চাহিদার পাশাপাশি দ্রুতই স্থানীয় মজুদ ফুরিয়ে আসছে। নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত না হওয়ায় ও আমদানি সরবরাহ না বাড়ায় গ্যাস নিয়ে ইতিমধ্যে শিল্প উদ্যোক্তাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আর জ্বালানি বিভাগ বলছে, আগামীতে আমদানীকৃত গ্যাস দিয়েই শিল্প খাত পরিচালিত হবে। সূত্র জানায়, গ্যাসের বিদ্যমান সরবরাহ ব্যবস্থাপনা অনুযায়ী বর্তমানে স্থানীয় মজুদ যে হারে কমছে তাতে আগামী এক দশক পর দেশে গ্যাস চাহিদার ৮৫ শতাংশ আমদানি করে মেটাতে হবে।

কয়েক বছর ধরেই গ্যাসের চাহিদার একটি অংশ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির মাধ্যমে পূরণ করতে হচ্ছে। তবে বিদ্যমান গ্যাস সরবরাহ সংকট পরিস্থিতির জন্য মূলত বিদ্যমান এলএনজির অবকাঠামো ও বৈশ্বিক বাজারদরই দায়ী। ফলে দেশে গ্যাস সরবরাহে বর্তমান পরিস্থিতিতে তার চেয়ে বেশি সরবরাহ বাড়ানোর সুযোগ নেই। বৈশ্বিক জ্বালানি উচ্চমূল্য, স্থানীয় সরবরাহ সংকট এবং আমদানির বিদ্যমান সরবরাহ সক্ষমতায় বর্তমানে গ্যাস সরবরাহ এ রকমই থাকবে। তবে নতুন করে গ্যাসক্ষেত্র এবং এলএনজি সরবরাহের অবকাঠামো নির্মাণ করার পর নতুন গতি আসতে পারে। সূত্র আরো জানায়, বর্তমানে দেশে দৈনিক ৪৫০ কোটি ঘনফুটের মতো গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। স্থানীয় উৎস ও এলএনজি দিয়ে মোট ৩১০ কোটি ঘনফুটের কিছু বেশি সরবরাহ হচ্ছে। কভিড মহামারীর শুরু থেকে চাহিদা ও সরবরাহে ১৪০ কোটি ঘনফুটের মতো গ্যাসের ঘাটতি রয়েছে। ২০২০-২১ অর্থবছরে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনে মোট গ্যাসের ৪১ দশমিক ৮১ শতাংশ ব্যবহার হয়েছে। তারপর ক্যাপটিভে সবচেয়ে বেশি ১৬ দশমিক ৬১ শতাংশ ব্যবহার হয়েছে। আবাসিকে ১৩ দশমিক ১৮ শতাংশ ও শিল্পে ১১ দশমিক ৮৬ শতাংশ গ্যাস ব্যবহার হয়েছে। সার উৎপাদনে গ্যাসের ব্যবহার হয়েছে ৬ দশমিক ৩৫ শতাংশ। ৩ দশমিক ৪৪ শতাংশ গ্যাসের ব্যবহার সিএনজিতে ছিল। বাকি গ্যাস বাণিজ্যিক ও অন্যান্য খাতে ব্যবহার হয়েছে। সূত্র আরো জানায়, গত অর্থবছরে দেশে গ্যাসের দৈনিক গড় চাহিদা ছিল ৪৩০ কোটি ঘনফুট। তার মধ্যে স্থানীয় উত্তোলন ও আমদানীকৃত এলএনজি মিলিয়ে সরবরাহ হয়েছে ৩০১ কোটি ঘনফুট। ওই হিসাবে চাহিদার বিপরীতে দৈনিক সরবরাহের ঘাটতি ছিল প্রায় ১৩০ কোটি ঘনফুট। আমদানীকৃত এলএনজির সরবরাহ বাদ দিলে গত অর্থবছরে স্থানীয় গ্যাসের দৈনিক ঘাটতি ছিল প্রায় ১৮৮ কোটি ঘনফুট। দেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাপনা ঠিক রাখতে প্রতিদিন ১৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন। কিন্তু তার বিপরীতে ১০০-১১০ কোটি ঘনফুটের মতো সরবরাহ হচ্ছে। প্রতিনিয়ত চাহিদা-সরবরাহে ঘাটতি থাকছে ৪০-৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাস। গ্যাসের সরবরাহ কমে গেলেই বিদ্যুতে তার প্রভাব ব্যাপক হারে লক্ষ্য করা যায়। প্রতি বছর উৎপাদনমুখী শিল্প খাত বাড়ছে, অন্যান্য শিল্প-কারখানা বাড়ছে।

ওসব জায়গায় বিদ্যুতের ব্যাপক চাহিদা তৈরি হচ্ছে। কিন্তু ওই তুলনায় গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানো যায়নি। গ্যাসের উৎপাদন ও আমদানি না বাড়লে আগামীতে সরবরাহ ব্যবস্থাপনা ঠিক রাখতে রেশনিং একমাত্র বিকল্প ব্যবস্থা। এদিকে বর্তমানে দেশে ৬৫টি গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মোট উৎপাদন সক্ষমতা ১১ হাজার ৪৫০ মেগাওয়াট। গ্যাস সংকটের কারণে বর্তমানে ৩৩টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। সেগুলোর মোট সক্ষমতা প্রায় সাড়ে ৫ হাজার। গ্যাস সংকটে ২০১২ সাল থেকে ২১০ মেগাওয়াট সক্ষমতার নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি বন্ধ রয়েছে। তাছাড়া ১০০ মেগাওয়াট সক্ষমতার হরিপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্রটিও ২০২০ সাল থেকে বন্ধ রয়েছে। গ্রীষ্ম ও সেচ মৌসুমের পাশাপাশি রমজানের কারণে এখন বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে। দেশে বিদ্যুতের চাহিদা এখন ১৪ থেকে সাড়ে ১৪ হাজার মেগাওয়াট। তবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, চাহিদা ব্যাপক হারে বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা ঠিক রাখতে রেশনিং করা হচ্ছে। আশা করা যায় রমজান ও সেচ মৌসুম শেষ হলে বিদ্যুতের চাহিদা কমে আসবে। তখন সব খাতে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে। অন্যদিকে জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থাপনা বর্তমানে নাজুক অবস্থায় এসে পৌঁছেছে। শিল্প খাতে গ্যাসে যে রেশনিং করা হচ্ছে তা অর্থনীতির জন্য একটি খারাপ দিক। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের পথ সরকারকে খুঁজে বের করতে হবে। তবে এ মুহূর্তে গ্যাস সরবরাহ সক্ষমতা বাড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। দেশে নতুন কোনো গ্যাসক্ষেত্র এবং এলএনজি নতুন কোনো অবকাঠামো তৈরি করা না গেলে এ সরবরাহ দিয়েই চলতে হবে। তাছাড়া জ্বালানির বৈশ্বিক যে দর তাতে উচ্চমূল্যে এলএনজি কেনারও পর্যাপ্ত অর্থ নেই।

ফলে চলতি মৌসুমে এ সরবরাহ সক্ষমতা দিয়েই চলতে হবে। মূলত বিদ্যুতের অতিরিক্ত চাহিদা তৈরি হওয়ার কারণে গ্যাসের ওপর বাড়তি চাপ পড়েছে। তবে বিদ্যুৎ সরবরাহ ঠিক রাখতে সরকার বিভিন্ন খাতে রেশনিং করছে। রোজার পরে শিল্প খাতে রেশনিং উঠে গেলেও সিএনজি খাতে থাকবে। কারণ সেখানে গ্যাসের বড় একটি অংশ সরবরাহ করা হয়। তবে দীর্ঘমেয়াদে রেশনিং ব্যবস্থায় যেতে হবে কিনা তা দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন আকস্মিকভাবে কমে যাওয়ার ওপর নির্ভর করছে। এ বিষয়ে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান নাজমুল আহসান জানান, দেশে জাতীয় গ্রিড লাইনে যে গ্যাস সরবরাহ হচ্ছে সেটিই সর্বোচ্চ সক্ষমতা। নতুন টার্মিনাল না আসা পর্যন্ত পেট্রোবাংলার আমদানি সরবরাহ বাড়ানো যাবে না। আগামী দু-এক বছরের মধ্যে এলএনজির তৃতীয় টার্মিনাল সরবরাহ লাইনে নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে।

Comments are closed.

     More News Of This Category

follow us on facebook page