November 25, 2020, 1:43 am

যৌণ উত্তেজক ঔষধের ছড়াছড়িতেই ধর্ষণের মহামারী

***বিচারহীনতায় আস্কারা পাচ্ছে ধর্ষকরা***

সাঈদুর রহমান রিমন : ‘ধর্ষণ দুর্যোগে বিপর্যস্ত বাংলাদেশ। ‘ শিক্ষা, সভ্যতা, আধুনিকতার সব অর্জন যেন ধর্ষণ কান্ডের পৈশাচিকতার সামনে মুখ থুবরে পড়েছে। অবিকল মানুষের চেহারাধারী একদল হায়েনা জাহেলিয়াত যুগের বর্বরতাকেও হার মানাচ্ছে, মেতে উঠছে সীমাহীন উন্মত্ততায়। কোথাও তারা সংঘবদ্ধভাবে প্রকাশ্যে, আবার কোথাও একাকী সংগোপনে তারা নারীদের উপর হামলে পড়ছে। কোথাও কোথাও ক্ষমতার দাপট খাটিয়ে আবার কোথাও প্রেমের অভিনয়ে ছদ্মবেশি দুর্বৃত্তরা লুটে নিচ্ছে নারীর সম্ভ্রম, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে প্রাণটাও কেড়ে নিচ্ছে। চার-পাঁচ বছরের নিস্পাপ শিশু থেকে শুরু করে আশি বছরের বৃদ্ধা নারী পর্যন্ত কারো যেন নিস্তার নেই।
মানুষরুপী জানোয়ারেরা দুগ্ধপোষ্য শিশু কিংবা অশীতিপর বৃদ্ধার সঙ্গে কিসের যৌণ লালসা মেটাতে যাচ্ছে? এটা যৌণ বিকার গ্রস্ততা। যৌণ উত্তেজক ভায়াগ্রা গোত্রের ধ সেবন করলেই এমন যৌণ বিকার গ্রস্ততা বা যৌণ বিকৃতির সৃষ্টি হয়ে থাকে বলে বিশেষজ্ঞরা মন্তব্য করেছেন। তারা জানিয়েছেন, এই যৌন বিকারগ্রস্তরাই হিতাহিত জ্ঞ্যানশূণ্য অবস্থায় ভয়ানক সব কান্ড ঘটিয়ে বসে। অনেকেই ধর্ষণ বৃদ্ধির পেছনে আকাশ সংস্কৃতির যথেচ্ছা প্রয়োগ, ডিজিটাল তথ্য প্রযুক্তির বেপরোয়া ব্যবহার, ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গীকে গুরুত্ব না দেয়া ইত্যাদিকে ধর্ষণ বৃদ্ধির কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। কিন্তু খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, দেশে আড়াই শতাধিক প্রতিষ্ঠান থেকে চার শতাধিক প্রকার যৌণ শক্তি বর্ধক ওষুধ প্রস্তুত হচ্ছে। বিপুল পরিমাণের এ ওষুধ গরু-ছাগল বা অন্য কোনো প্রাণী তা সেবন করে না, মানুষই সেবন করছেতিাদের যৌণ বিকারগ্রস্ততা মানুষের উপরই প্রয়োগ করে থাকে এটা নিশ্চিত। ফলে ধর্ষণ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এ ওষুধগুলোই সিংহভাগ কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
===== =====
যৌণ উত্তেজক ঔষধের ছড়াছড়ি আর অবাধ ব্যবহারে কারণেই দেশে যৌণ হয়রানি, ধর্ষণসহ নানা বর্বরতার ঘটনা অস্বাভাবিক ভাবে বেড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সেসব ঔষধের প্রতিক্রিয়ায় সৃষ্ট যৌণ উত্তেজনায় কিছু মানুষ নানা উন্মত্ত কান্ড ঘটিয়ে চলছে। ঔষধ অধিদপ্তরের খামখেয়ালীপনায় দেশের বৈধ-অবৈধ শতাধিক প্রতিষ্ঠান প্রায় আড়াইশ’ প্রকার ‘সেক্স ড্রাগ’ প্রস্তুত করে তা অবাধে বাজারজাত করে চলছে। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, যৌণ উত্তেজক সিরাপ, ট্যাবলেট, ক্যাপসুল কিংবা হালুয়ায় অপিয়াম উদ্ভুত অপিয়েট (একধরনের মাদক) এবং সিলডেনাফিল সাইট্রেট নামে রাসায়নিক দ্রব্য রয়েছে। এছাড়া রয়েছে উচ্চমাত্রার ক্যাফেইন। সিলডেনাফিল সাইট্রেট সেবনকারীদের হঠাৎ কয়েক মুহূর্তের জন্য যৌন উত্তেজনা বোধ করলেও স্থায়ীভাবে এ ক্ষমতা ধ্বংস করে দেয়। সেবনকারীরা নেশাসক্ত হয়ে পড়ে এবং নানারকম পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াসহ লিভার, কিডনি ও হৃদরোগে আক্রান্ত হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে বনানীর ধর্ষণযজ্ঞসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত যৌণ হয়রানিমূলক নানা বর্বরতার পেছনেও ‘যৌণ উত্তেজক ঔষধ’ গুরুত্ববহ ভূমিকা রেখেছে। বাড্ডায় মাত্র তিন বছরের শিশুকে পৈশাচিক বর্বরতার মাধ্যমে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত শিপন মধ্যবাড্ডাস্থ এক হারবাল কোম্পানির ‘কস্তুরি’ ক্যাপসুল সেবন করেই উন্মত্ত হওয়ার দাবি করে। অভিযোগ রয়েছে, হারবাল চিকিৎসার নামে এরা যৌণ উত্তেজক মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত। মূলত যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট গুড়ো করে হালুয়া বানিয়ে হারবাল ঔষধ হিসেবে চালিয়ে দিচ্ছে। হারবাল প্রতিষ্ঠানের মালিক চিকিৎসকরা রোগীদের আকৃষ্ট করতে নিজেরাই ঔষধের নাম তৈরি করে। বাহারি আর ইসলামী কায়দার নাম দেখে রোগীরা আকৃষ্ট হয়। কিন্ত প্রশাসনের কোন নজরদারি নেই। অভিযানও চলছে না এসব প্রতিষ্ঠানে। ফলে নির্বিঘে চালিয়ে যাচ্ছে তাদের অবৈধ কর্মকান্ড। কিছু প্রতিষ্ঠান ড্রাগ লাইসেন্সের আড়ালে ভেজাল ঔষধ তৈরি করে বিকিকিনি করছে। এদের অনেকেই অলৌকিকভাবে ঔষধ অধিদপ্তরের ‘ড্রাগ লাইসেন্স’ পর্যন্ত পেয়ে গেছে।
ডাক্তার সাহেবরা নিজস্ব প্যাডে নয় বরং চিরকূটে লিখে দেন নানা ধরনের এই সব যৌন উত্তেজক ঔষধ এর নাম। একটি বেসরকারী হাসপাতালের চিকিৎসক ডাঃ রায়হানুল হক জানান এনার্জি ড্রিংকস নামে যে সব পানীয় বিক্রি হচ্ছে তা হচ্ছে স্রেফ সাময়িক উন্মাদনা সৃষ্টির নিয়ামক হিসেবে। এরমধ্যে রয়েছে অ্যালকোহল (মদ) মিশ্রিত সাময়িক উত্তেজনা সৃষ্টির উপাদান।সংবলিত বোতলজাত বা টিনজাত পণ্যসমূহকে এনার্জি ড্রিংক নামে অভিহিত করা হচ্ছে। এগুলো পান করার পর শরীরে সাময়িকভাবে ভিন্ন ধরণের উত্তেজনা সৃষ্টি করে। যারা নিয়মিত খায় তারা ধীরে ধীরে এতে আসক্ত হয়ে পড়ে। এসব সিরাপ নিয়মিত পান করলে শরীরে কিডনি, লিভার, ফুসফুসসহ অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে নানা জটিল রোগ সৃষ্টি করতে। এসব সিরাপ মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসী টেকনোলজী বিভাগের প্রফেসর এবিএম ফারুক মনে করেন, যে কোন ঔষধ উপর নিয়ন্ত্রণ না করা গেলে বিক্রির অনুমোদন দেয়া ঠিক না। তিনি আরো বলেন, এসব ঔষধ সেবনে শুধু পুরুষত্ব ধ্বংস কিংবা যৌণশক্তি কমে গেল-তা নয়, সেবনকারীরা হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকেই।এক শ্রেনীর হারবাল ইউনানী নামধারী ভূয়া চিকিৎসক তরুনদেরকে যৌন রোগের ভয় দেখিয়ে দিনের পর দিন ধরে উত্তেজক ঔষধ খাওয়াতে থাকে। যা এক সময় ভয়ঙ্কর ক্ষতি ডেকে আনে। অনেকে যৌন ক্ষমতায় অক্ষম পর্যন্ত হয়ে পড়েন, কেউ কেউ আবার লিভার এবং কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়।
নারী-পুরুষের যৌন রোগসহ জটিল কঠিন রোগের চিকিৎসা দেয়ার নামে বিভিন্ন চক্র দেশজুড়ে প্রতারণার বাণিজ্য ফেঁদে বসেছে। পত্র-পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে এবং নিজস্ব প্রচারপত্রের মাধ্যমে সেক্স বৃদ্ধি, শুক্রকীট সবল, চিকন ও মোটা স্বাস্থ্য করা, অনিদ্রা, পেট ফাঁপা, একজিমা, গ্যাস্টিক ও চুল উঠা রোগ শতভাগ নিরাময়ের অঙ্গীকার দেয়া হয়। এসব প্রচারণায় বিশ্বাস করেই সরলপ্রাণ মানুষজন নানা প্রতারণার শিকার হন। ঔষধ অধিদপ্তরের লাইসেন্সের আড়ালে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান অবৈধভাবে প্রস্তুত করছে ‘যৌন স্ট্রং হাই পাওয়ার বড়ি, লং টাইম হালুয়া, হাব্বে কবাদ, স্ট্রং ম্যাসেজ ওয়েল মালিশ, সেক্স কিং, বেগম রাহাত, কস্তরী মালিশ, ব্রেস্ট শক্ত করার মালিশ, কুস্তায় মাড়োয়ারি, কস্তুরি, জিনসেং, প্লাস সেক্সসল, শরবতে জিনসিন প্লাস, নিশাত গোল্ড, রিট্যাব গোল্ড (কুরছ মুকাব্বী খাছ), ট্যাবলেট টাস, ক্রিম টিলা ইত্যাদি নামের যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট, ক্যাপসুল ও সিরাপ। কোনো কোনো হেকিমী দাওয়াখানায় ঔষধ সেবনের ৫৯ সেকেন্ডের মধ্যেই ঔষধের গুণাগুণ কার্যকরের গ্যারান্টি পর্যন্ত দেয়। এসব ঔষধ খেয়ে যৌণ দুর্বলতা দূর হওয়া পরের কথা, জটিল ও কঠিন রোগে যৌবন শক্তি স্থায়ীভাবে বিনষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকছে।
শহর-বন্দর, হাট-বাজারে মজমা বসানো ক্যানভাসারদের হাতে হাতে ঘুরে এসপি হালুয়া, শুক্র বড়ি, জিংসেং এসপি বড়ি, জিংসেং ওয়েলসহ নানা নামের বিভিন্ন মেয়াদের কথিত সেক্সের ঔষধ। এসব ঔষধ সেবনের বিপরীতে যৌণ ক্ষমতা কয়েক ঘন্টা স্থায়ীত্ব থাকারও অলীক গল্প বলে বেড়ায় ক্যানভাসাররা। ১০০ টাকা অগ্রিম ডাকযোগে পাঠালে ঔষধ পাঠনো হয় বলে প্রচার চালানো হচ্ছে। সুন্দরবনসহ কয়েকটি কুরিয়ার সার্ভিস এসব ঔষধ পার্সেলের কাজে বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে। একশ্রেণীর যুবক রঙবেরঙের লিফলেট পড়ে ও বিজ্ঞাপন দেখে বিভিন্ন হারবাল চিকিৎসা কেন্দ্রে গিয়ে হয়রানি ও প্রতারনার শিকার হচ্ছে। রোগ নিরাময় তো দুরের কথা মানুষ আরো পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ায় ভুগছে। ইয়াবা, ভায়াগ্রা, ইডিগ্রাসহ ভারতীয় যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট গুড়ো করে মিশিয়ে বড়ি ও হালুয়া তৈরি করে হারবাল ঔষধ বলে চালিয়ে দিচ্ছে। এ ঔষধ খেলে ক্ষনিকের জন্য কাজ হয় যৌন উত্তেজনার। কিন্ত পরে তাদের সমস্যায় পড়তে হয়। এ চিকিৎসা গোপন ব্যাপার তাই প্রতারনার শিকার হলেও অনেকে লোক লজ্জার ভয়ে মুখ খোলেনা।
ঔষধ ফার্মেসীগুলোতে দেশী কোম্পানীর যৌন উত্তেজক ট্যাবলেটগুলোর পাশাপাশি চোরাই পথে আসা ভারতীয় কোম্পানীর যৌন উত্তেজক ট্যাবলেটও বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এদিকে স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থীরা ছাত্ররা এই যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট সেবন করে দিন দিন লিপ্ত হয়ে পড়ছে অসামাজিক কার্যকলাপের সঙ্গে। অন্যদিকে মিটফোর্ড এর খান মার্কেট এবং রহিম মার্কেটে পাওয়া যাচ্ছে এই সব বৈধ ও অবৈধ দেশি- বিদেশি যৌন উত্তেজক ঔষধ। মাত্র কয়েক বছর আগেই ভায়াগ্রা এসে বিপ্লব ঘটিয়ে দেয়। এছাড়াও আছে সেনেগ্রা এবং পার্কটিমের মত রাশি রাশি যৌন উত্তেজক ঔষধ। বৈধ অবৈধ সীমান্ত এলাকা দিয়ে বাংলাদেশে ঢুকছে বিশ্ব বাজারে বাতিল হওয়া নানা ব্রান্ডের যৌন উত্তেজক ঔষধ।

চলছে ঔষধ প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই
============
ঔষধ প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই রাজধানীসহ সারাদেশে চলছে অবৈধ যৌন উত্তেজক ঔষধের রমরমা ব্যবসা। বেশ কয়েকটি ইউনানী, আর্য়ুবেদী ও হোমিও ঔষধ কোম্পানি যৌন উত্তেজক ঔষধ উৎপাদন ও বাজারজাত করছে। অনেক ঔষধের লেবেল, কার্টন ও ট্রেড নামের অনুমোদন নেই। ঔষধ উৎপপাদনের একটি লাইসেন্স নিয়েই অবাধে চালাচ্ছে ঔষধের ব্যবসা। ভেজাল, নিম্নমানের ও নেশা জাতীয় রাসয়নিক দ্রব্যযুক্ত এসব ক্ষতিকর ওষধ কিনে স্বাস্থ্য ঝুকিতে পড়ছেন ভোক্তা সাধারণ। হচ্ছে প্রতারিত, আইন র্শঙ্খলা রক্ষা বাহিনী মাঝে মধ্যে অভিযান চালিয়ে এসব অসাধু ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার, জেলজরিমানা এবং ঔষধ জব্দ করলেও থেমে নেই তাদের অবৈধ ব্যবসা। আবার এসব কোম্পনীর অনিয়মের বিরুদ্ধে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরে অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার মেলে না। কতিপয় দূর্নীতিপরায়ন কর্মকর্তা-কর্মচারির সহযোগিতায় এই অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে চক্রটি।
বাজারে হাত বাড়ালেই মিলছে বিভিন্ন কোম্পানির নানা ব্র্যান্ডের অবৈধ যৌন উত্তেজক ঔষধ। দেশিয় উৎপাদিত অসংখ্য ঔষধের সঙ্গেই যুক্ত হয়েছে চোরাই পথে আমদানি করা বেশ কিছু বিদেশি ঔষধ। এগুলোর মধ্যে ভায়াগ্রা, এনাগ্রা, সিনেগ্রা, ভিগার, পাওয়ার, কামশক্তি, টার্গেট, ওয়ানগ্রা, নিশাত, রিফিল, ভ্যালেন্টি, সাজিন, জিনসিন, লিবিডেক্স, ফ্রডেক্স, এনডিউরেক্স, হাব্বে নিশাত, ইডেগ্রা. ডিওম্যাক্স, ঔষধের ছড়াছড়ি চলে বাজারে। এছাড়াও আছে জিনসিন পাওয়ার, মেনফাষ্ট, জিনসিন, জিনসেং, জিংটন প্লাস, প্রিটন প্লাস, এম, এল, জিনসিন, হর্সফিলিংস, হর্স পাওয়ার, ব্লাক হর্স, জিনসিং প্লাস সেক্সসল, শরবতে জিনসিন প্লাস, নিশাত গোল্ড, রিট্যাব গোল্ড (কুরছ মুকাব্বী খাছ) ইত্যাদি নামের যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট, ক্যাপসুল ও সিরাপ। বাংলা লায়ন, জি-স্টার নামের যৌণ উত্তেজনা সৃষ্টিকারী সিরাপ এখন ফেনসিডিলের বিকল্প হিসেবেও ব্যবহার হচ্ছে। রাজধানীসহ সারাদেশেই অবাধে বিক্রি হচ্ছে এসব ঔষধ। ঢাকার বাইরে পান সিগারেটের দোকানেও পাওয়া যাচ্ছে সিরাপ-ট্যাবলেটগুলো।
জিনসিন পাওয়ার, ম্যাসেজ অয়েল তৈরী করছে প্যানাসিয়া ফার্মাসিউটিক্যালস্ ইন্ডাস্ট্রিজ (ইউনানী)। বি-জিনসিন ৪৫০ মি:লি শরবত জিনসিন ১০০ মি:লি’র উৎপাদক বিসমিল্লাহ ল্যবরেটরিজ। শামস্ ফার্মাসিউটিক্যালস্ প্রস্তুত করে ম্যাক্সিন ফোট যৌন উত্তেজক সিরাপ। বেঙ্গল ফার্মাসিউটিক্যালস্ ন্যাচারাল আয়রন+ ভিটামিন ক্যাপসুল মেগা গোল্ড। বিডি ইউনানীর (চুয়াডাঙ্গা) প্রস্তুতকৃত নিশাত কস্তুরী ট্যাবলেট ও এ্যালো জিনসিন ড্রিংকস নামের যৌণ উত্তেজক সিরাপ দেদারছে বাজারজাত হচ্ছে। একই ধরনের তবে কম-বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন যৌন উত্তেজক ঔষধসমূহ প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলো হচ্ছে, ডিল্যাক্স ল্যাবরেটরিজ (ঢাকা), হেলমো ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি (চাঁদপুর), আধুনিক ফার্মাসিউটিক্যাল (ঢাকা), তোহা ল্যাবরেটরিজ, তোহা ল্যাবরেটরিজ হোমিও ফাস্ট ফার্মাসিইটক্যাল, ময়মনসিংহ, নিকোআর্য়ূবেদী (বগুড়া) পিভেনটিজ ভাংলাদেশ(বগুড়া), রোজমার্ক র্ফামাসিউটিক্যালস্, সিলেট, মলি¬ক ল্যাবরেটরীজ (টঙ্গি), সালমা ইউনানী ল্যাবরেটরিজ (ঝিনাইদহ), সুফলা ইউনানী (রাজগঞ্জ, নোয়াখালী), সোলার ফার্মাসিউটিক্যাল (পাবনা), মেসার্স জনি ল্যাবরেটরিজ লিমিটেড (পাবনা), মেসার্স ঢাকা ইউনানী ল্যাবররেটরিজ (ঢাকা), স্নেহা ইউনানী ল্যাবরেটরিজ, আর্ক ইউনানী (চাঁদপুর), সোনালী ল্যাবরেটরিজ এইচ ও এম হারবাল (রাজশাহী), এশিয়ান ফার্মাসিউটিক্যাল ইউনানী, রোজমার ফর্মাসিউটিক্যাল (সিলেট) প্রিভেন্টিজ ইন বাংলাদেশ ইউনানী (রাজশাহী) উয়ুত ল্যাবরেটরিজ ইউনানী (ঢাকা), বেঙ্গল দাওয়াখানা ইউনানী (ফেনী), রিনোভা ফার্মাসিউটিক্যাল (বরিশাল), বেঙ্গল ইউনানী, সরফ ফার্মাসিউটিক্যাল, সেতু ড্রাগ আয়ু (ঝিনাইদহ), আল শেফা ইউনানী ফার্ম (ঢাকা), জেবিএল ড্রাগ ল্যাবরেটরিজ (গাজীপুর, ঢাকা), এনা ল্যাবরেটরিজ ইউনানী (সিলেট) এভার গ্রীন ফার্মাসিউটিক্যাল আয়ুর্বেদিক (টাঙ্গাইল), সবুজ ফার্মসিউটিক্যাল ইউনানী (বগুড়া), সবুজ ফামাসিউটিক্যাল আয়ুর্বেদিক (বগুড়া) আর্গান হারবাল ল্যাবরেটরিজ (নাটোর), রুহান ফার্মাসিউটিক্যাল ইউনানী (বগুড়া), তালুকদার ল্যাবরেটরিজ আয়ু (বরিশাল) সহ বিভিন্ন ইউনানী ও আর্য়ুবেদীক ঔষধ কোম্পানির নামে অনুমোদন ও যথাযথ নিয়ম-কানুন ছাড়া এসব যৌন উত্তেজক ঔষধ উৎপাদন ও বাজারজাত করা হচ্ছে।
আধুনিক হোমিওপ্যাথি’র ডা. আবুল হাসান বলেন, অবৈধ নেশা সৃষ্টিকারী ঔষধগুলো সাময়িক আনন্দ সৃষ্টি করলেও দীর্ঘমেয়াদী জটিল রোগের দিকে ঠেলে দেয়। এসব ঔষধের বৈধতা বলতেও কিছু নেই। সিরাপ ও কিংবা ট্যাবলেটে যেসব উপাদান থাকার কথা উল্লেখ করা হয় বাস্তবে সেগুলোর কোনো মিলও থাকে না।

Please share it ..
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মোট আক্রান্ত

৪৫০,৬৪৩

সুস্থ

৩৬৪,৯১৬

মৃত্যু

৬,৪২০

  • জেলা সমূহের তথ্য
  • ঢাকা ১৩৬,৮৩৩
  • চট্টগ্রাম ২৩,২২২
  • বগুড়া ৮,৪৪৮
  • কুমিল্লা ৮,২৯০
  • সিলেট ৮,০৭৫
  • ফরিদপুর ৭,৬৬১
  • নারায়ণগঞ্জ ৭,৫২৬
  • খুলনা ৬,৭৯১
  • গাজীপুর ৬,০২২
  • কক্সবাজার ৫,৩৬৮
  • নোয়াখালী ৫,২০৩
  • যশোর ৪,২৯৩
  • বরিশাল ৪,২০৯
  • ময়মনসিংহ ৩,৯৮৮
  • মুন্সিগঞ্জ ৩,৮৮৭
  • দিনাজপুর ৩,৮৬২
  • কুষ্টিয়া ৩,৫১৮
  • টাঙ্গাইল ৩,৪৩৩
  • রংপুর ৩,৩২৫
  • রাজবাড়ী ৩,২২১
  • কিশোরগঞ্জ ৩,১৮৩
  • গোপালগঞ্জ ২,৭৭২
  • নরসিংদী ২,৫৭০
  • ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২,৫৫৬
  • চাঁদপুর ২,৪৯৯
  • সুনামগঞ্জ ২,৪৩৬
  • সিরাজগঞ্জ ২,৩২৭
  • লক্ষ্মীপুর ২,২২০
  • ঝিনাইদহ ২,১৬২
  • ফেনী ২,০৩৭
  • হবিগঞ্জ ১,৮৭১
  • মৌলভীবাজার ১,৮১২
  • শরীয়তপুর ১,৮১০
  • জামালপুর ১,৭১১
  • মানিকগঞ্জ ১,৬০৯
  • পটুয়াখালী ১,৫৬৮
  • চুয়াডাঙ্গা ১,৫৬০
  • মাদারীপুর ১,৫২৯
  • নড়াইল ১,৪৭১
  • নওগাঁ ১,৪০০
  • ঠাকুরগাঁও ১,৩১১
  • গাইবান্ধা ১,২৮৭
  • পাবনা ১,২৮২
  • নীলফামারী ১,১৮২
  • জয়পুরহাট ১,১৭৭
  • সাতক্ষীরা ১,১২৫
  • পিরোজপুর ১,১২২
  • নাটোর ১,১০২
  • রাজশাহী ১,০৮৫
  • বাগেরহাট ১,০১৪
  • মাগুরা ৯৮৯
  • রাঙ্গামাটি ৯৮৪
  • বরগুনা ৯৭৭
  • কুড়িগ্রাম ৯৫১
  • লালমনিরহাট ৯১১
  • ভোলা ৮৫৮
  • বান্দরবান ৮২৯
  • চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৮০১
  • নেত্রকোণা ৭৬৭
  • ঝালকাঠি ৭৫৮
  • খাগড়াছড়ি ৭২২
  • পঞ্চগড় ৭১০
  • মেহেরপুর ৬৯১
  • শেরপুর ৫১১
ন্যাশনাল কল সেন্টার ৩৩৩ | স্বাস্থ্য বাতায়ন ১৬২৬৩ | আইইডিসিআর ১০৬৫৫ | বিশেষজ্ঞ হেলথ লাইন ০৯৬১১৬৭৭৭৭৭ | সূত্র - আইইডিসিআর | স্পন্সর - একতা হোস্ট

Comments are closed.

     More News Of This Category

follow us on facebook page