15th, August, 2022, 4:27 am

ভৈরবে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে জনজীবন অতিষ্ট

ভৈরব প্রতিনিধি :  ভৈরবে করোনাভাইরাস আতঙ্ক আর বিদ্যুতের অব্যাহত লোডশেডিংয়ে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। বিদ্যুতের অব্যাহত লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবনের স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহতসহ উৎপাদন ও শিক্ষার্থীদের লেখা-পড়ায় বিঘœ ঘটছে। প্রতিদিন গড়ে ৮/১০ ঘন্টা বিদ্যুতের লোড শেডিং হচ্ছে। বিদ্যুতের এ নাজুক পরিস্থিতিতে ভৈরববাসী ক্ষোভে ফুসে ঊঠেছে। বিদ্যুতের এ নাজুক পরিস্থিতিতে দ্রƒত পদক্ষেপ নিতে স্থানীয় সাংসদ ও বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন সহ বিদ্যুত মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভৈরববাসী। জানাযায় বিগত ২ মাস যাবৎ ভৈরবের বিদ্যুত ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। প্রতিদিন কোন না কোন এলাকায় লোডশেডিং হচ্ছে। বিদ্যুতের এ ভেলকিবাজিতে অতিষ্ঠ হয়ে সম্প্রতি ভৈরব উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুতের দাবীতে ভৈরব বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও করে এর কারণ জানতে চায়। এ সময় বিদ্যুতের লোডশেডিং কেন হচ্ছে ? সঠিকভাবে যেন বিদ্যুতের সমস্যা থাকলে সমাধান করে জনগণকে লোডশেডিংয়ের অভিশাপ থেকে মুক্তি দেয় তা না হলে দায়িত্ব থেকে স্বেচ্ছায় সরে যাওয়ার জন্য সতর্ক করে দেন ভৈরব বিদ্যুৎ উন্নয়ন ও বিতরণ বিভাগের আবাসিক নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ শফিকুল ইসলামকে। কিন্তু তিনি ভৈরব থেকে অন্যত্র বদলী হলে নতুন কর্মস্থলে যোগ দেন মোঃ সুলতান আহমেদ নামে আবাসিক নির্বাহী প্রকৌশলী। কিন্তু তিনি যোগদানের কয়েকদিন পর ফেসবুক পেজে বিদ্যুত লাইন মেরামত করা হবে এজন্য আগামী ৪ জুন ভৈরবে লোডশেডিং হবে বলে একটি গণ বিজ্ঞপ্তি জারী করেন। কিন্তু এখনো পর্যন্ত বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের কবল থেকে ভৈরববাসী মুক্ত হতে পারেনি।
নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানাযায়, ভৈরবে গড়ে প্রতিদিন ২৬ মেঘাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু চাহিদা মোতাবেক বিদ্যুত সরবরাহ আছে। আসল সমস্যা হচ্ছে বিদ্যুতের সঞাচালন ক্যাবল লাইন এবং পাওয়ার ট্রান্সফরমার এবং অদক্ষ জনবল। এসব সমস্যা সমাধান করা গেলে বিদ্যুত লোডশেডিংমুক্ত করা যাবে। তাছাড়া বিকল্প ব্যবস্থায় আশুগঞ্জ থেকে টাওয়ারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা গেলে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে। এ বিষয়ে পলতাকান্দা গ্রামের বাসিন্দা সেলিম মিয়া জানান, করোনাভাইরাসে মানুষ আতঙ্কিত। এরমধ্যে বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ে ডায়াবেটিস,উচ্চ রক্তচাপসহ হার্টের রোগীরা আরো অসহায় হয়ে পড়েছে। স্থানীয় ওয়ার্ড যুবলীগ নেতা শেহজাদ হাসান নাঈম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,আগের প্রকৌশলী যে ধারায় বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ে মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলেছিল নতুন প্রকৌশলী এসে ও তার কোন পরিবর্তন নেই। লোডশেডিংয়ের কবল থেকে রেহাই মিলবে কবে আল্লাহ মালুম। এ বিষয়ে জাকির হোসেন জানান,লোডশেডিংয়ের কারণে ফ্রিজ,টিভি,কম্পিউটার,ফ্যানসহ বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে।। করোনা ভাইরাসের কারণে স্বাভাবিক কাজকর্ম নেই আবার এরইমধ্যে ভৌতিক বিল পরিশোধের জন্য বিলের কাগজ পাঠিয়েছে। এ বিষয়ে ভৈরব বিদ্যুত অফিসে গিয়ে আবাসিক নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ সুলতান আহমেদ কে পাওয়া যায়নি। তার মোঠো ফোনে ফোন দিলে তিনি জানান, বিদ্যুতের লোডশেঙিং ঠিক হয়ে যাবে। কবে নাগাদ ঠিক হবে আর লোডশেডিং হচ্ছেই বা কেন এর কোন জবাব তিনি দিতে পারেননি।

Comments are closed.

     More News Of This Category

follow us on facebook page