7th, December, 2022, 2:03 am

ভারত থেকে তেল আনতে আগামী মাসেই পাইপলাইন নির্মাণ শুরু

নিজস্ব প্রতিনিধি: আগামী মার্চ মাস থেকেই ভারত থেকে জ্বালানি তেল আমদানির লক্ষ্যে ইন্দো-বাংলা মৈত্রী পাইপলাইন নির্মাণ শুরু হচ্ছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি আমদানিতে প্রবেশ করবে। পাইপলাইনটি দিয়ে ভারত থেকে সরাসরি জ্বালানি তেল এদেশে আসবে। প্রায় দেড় বছর আগে ইন্দো-বাংলা মৈত্রী পাইপলাইনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হলেও এতোদিন পর নির্মাণ কাজ শুরু হতে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে প্রকল্পের পাইপের প্রথম চালান ভারত থেকে এদেশে এসে পৌঁছেছে। প্রকল্পটির জন্য একনেক ৩০৬ কোটি ২৩ লাখ টাকা অনুমোদন দিয়েছে। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বাংলাদেশ এবং ভারত- দুই দেশই মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে জ্বালানি তেল আমদানি করে। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের দেশ থেকে সমুদ্রপথে তেল আমদানি এবং ওই তেল দেশের উত্তরাঞ্চলে নৌ বা রেলপথে পরিবহনের সময় বেশি পরিমাণ সিস্টেম লস হয়। আর ভারত থেকে আমদানি করলে সিস্টেম লস কমা হওয়ার ফলে তেলের সার্বিক দাম কম পড়বে। এই সুবিধা বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ-ভারত পাইপলাইন নির্মিত হচ্ছে। বর্তমানে প্রতি ব্যারেল জ্বালানি তেল আমদানিতে বিপিসির পরিবহন খরচ (প্রিমিয়ার) ৬ দশমিক ৬ মার্কিন ডলার। তার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্য থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে তেল আনতে ব্যারেল প্রতি খরচ ২ দশমিক ২ ডলার। আর চট্টগ্রাম থেকে দিনাজপুরের পার্বতীপুর ডিপোতে তেল নিয়ে যেতে খরচ হয় ৪ দশমিক ৪ ডলার। পাইপলাইনটি চালু হলে মোট পরিবহন খরচ এক ডলারের বেশি কমে ৫ দশমিক ৫ ডলারে দাঁড়াবে বলে বিপিসি প্রাক্কলন করেছে। সূত্র জানায়, ভারত বিগত ২০১২ সালের ৬ ডিসেম্বর পাইপলাইনে তেল আমদানি করতে বাংলাদেশকে প্রস্তাব দেয়। বর্তমানে ক্রুড ও পরিশোধিত তেল সামুদ্রিক জাহাজ, নৌ জাহাজ, ওয়াগন ট্রেন এবং ট্যাংক লরিতে পরিবহন করা হচ্ছে। দীর্ঘকাল ধরে এ চার উপায়ে বিদেশ থেকে আমদানি থেকে শুরু করে দেশের প্রান্তিক পর্যায় পর্যন্ত তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। কিন্তু তাতে সিস্টেম লস, খরচ বেড়ে যাওয়ায় এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ছে। এমন প্রেক্ষাপটে তেল পরিবহনে পাইপলাইন ব্যবহারের জন্য ভারতের প্রস্তাব গ্রহণ করে সরকার। তারই অংশ হিসেবে ২০১৮ সালে ‘ইন্দো-বাংলা মৈত্রী পাইপলাইন’ নির্মাণে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। কথা ছিল চলতি ২০২০ সালে পাইপলাইনের মাধ্যমে বাংলাদেশ তেল আমদানি শুরু করবে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে ভূমি অধিগ্রহণ এবং সরকারের আন্তঃমন্ত্রণালয় যোগাযোগ-সমঝোতা সম্পন্ন করতে না পারায় কাজ শুরু করতে দেরি হয়। আগামী মার্চ থেকে পাইপলাইন নির্মাণ শুরু হলেও আগামী বছরের আগস্ট নাগাদ পাইপে তেল আমদানি শুরু করা যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদী। সূত্র আরো জানায়, ইন্দো-বাংলা মৈত্রী পাইপলাইনটি বাংলাবান্ধা থেকে পার্বতীপুর যাওয়ার পথে একাধিক নদী, সড়ক ও রেলপথ পার হবে। সেজন্য বিআইডব্লিউটিএ-এর অধীনে তিস্তা, ইছামতি, করতোয়া ও ডাউক নদীর মোট ৬টি পয়েন্টে এবং রেলওয়ের অধীনে ৩টি পয়েন্টে, সড়ক ও জনপথের ৪টি পয়েন্টে এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে ২৮ পয়েন্ট স্পর্শ করবে। দীর্ঘদিনের আলোচনা শেষে ওই অনুমোদন-সমঝোতাও মিলেছে। প্রককল্পটি বাস্তবায়নকারী সংস্থা হচ্ছে মেঘনা পেট্রোলিয়াম কোম্পানি। পাইপলাইন নির্মাণের লক্ষ্যে ইতিমধ্যে ভারত থেকে প্রথম চালানের পাইপ ৪৫টি লরিতে করে বাংলাদেশে পৌঁছেছে। কয়েকটি ধাপে মোট ১২৫ কিলোমিটার পাইপ আসবে। ভারতের শিলিগুড়িতে নুমালীগড় রিফাইনারির মার্কেটিং টার্মিনাল থেকে বাংলাদেশে দিনাজপুরের পার্বতীপুর ডিপো পর্যন্ত পাইপলাইন স্থাপিত হবে। ইতিমধ্যে ভারতীয় অংশেও জমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু হয়েছে। এদিকে পাইপলাইন নির্মাণ প্রসঙ্গে প্রকল্প পরিচালক টিপু সুলতান জানান, বেনাপোল বন্দর দিয়ে বাংলাদেশে পাইপলাইনের প্রথম চালান প্রবেশ করেছে। ১৩০ কিলিমিটার দীর্ঘ পাইপলাইনের মধ্যে ১২৫ কিলোমিটার বাংলাদেশে এবং ৫ কিলোমিটার ভারতে স্থাপিত হবে। সব মিলিয়ে ৬ মাসের মধ্যে বাংলাদেশ অংশের সম্পূর্ণ পাইপলাইন বসানো সম্পন্ন করা যাবে। অন্যদিকে এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান মো. সামছুর রহমান জানান, জমি অধিগ্রহণসহ কয়েকটি ইস্যুর কারণে কাক্সিক্ষত গতিতে প্রকল্পটি এগিয়ে নেয়া যায়নি।

Comments are closed.

     More News Of This Category

follow us on facebook page

error: sorry please