15th, August, 2022, 1:46 am

বিয়ে বাণিজ্য করা জাহাপুরের সেই মুক্তারের জনপ্রতিনিধিত্ব বাতিলের আবেদন

মীর আলাউদ্দিন : একের পর এক বিয়ে করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া মুরাদনগর ১৭ নং জাহাপুর ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের মেম্বার মোঃ মুক্তারের বিরুদ্ধে ঢাকার পল্লবী থানার মামলার চার্জশীট আমলে নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ আইনের ৩৪ এর উপধারা ১ এর বিধান মোতাবেক মেম্বার পদ থেকে বরখাস্তের আবেদন করেছেন তার দ্বিতীয় স্ত্রী শম্পা আকতার। একেরপর এক বিয়ে করে স্ত্রী ও তার পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া মুক্তার রাজধানী মিরপুর ১২ মুসলিম বাজারে স্বর্ণের দোকান দেবার পরে পরিচয় হয় কালাপনি ১ নং রোডের মৃত বাবুল হোসেন ভূইয়ার মেয়ে শম্পা আক্তারের সাথে। শম্পাকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ২০১৫ সালে বিয়ে করে মুক্তার কিছু বছর পরে তাদের একটি পুত্র সন্তান জন্ম নেয়। বিয়ের পর নানা ছুতোয় কয়েক লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেয় মুক্তার। এর কিছু বছর পরে মুক্তারের নিজ এলাকা মুরাদনগরের ১৭ নং জাহাপুর ইউনিয়ন পরিষদের ১ নং ওয়ার্ডের মেম্বার পদে নির্বাচনের জন্য শম্পার পরিবারের কাছ থেকে নেন ১০ লক্ষ টাকা।

মুক্তার ১ নং ওয়ার্ড থেকে নির্বাচনে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছেন এমন খবর শুনে বিভিন্ন মারফতে মুক্তারের বাসার ঠিকানা যোগাড় করে শম্পা তার শশুর বাড়ি যায়। সেখানে যেয়ে জানতে পারে মুক্তারের আগের একটি বউ আছে সেই ঘরে একটি বাচ্চাও রয়েছে। অথচ শম্পাকে বিয়ের আগে নিজেকে অবিবাহিত দাবি করে প্রতারণার মাধ্যমে বিয়ে করে মুক্তার তাদের বিয়ের কাবিননামাতেও মুক্তার অবিবাহিত হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। শম্পা শশুর বাড়ি যেয়ে এসব জানতে পারার কারণে মুক্তার শম্পাকে মারধর করে শম্পার স্বর্ণের গহনা কেড়ে নিয়ে বাসা থেকে বের করে দেয় এবং ৩ লক্ষ টাকা নিয়ে আসতে বলে। সন্তানের সুখের কথা চিন্তা করে প্রতারক মুক্তার জন্য ৩ লক্ষ টাকা দিয়ে নিজ মেয়ে শম্পাকে আবার শশুড় বাড়ি পাঠায় শম্পার মা হাসিনা বেগম।

টাকা হাতে পেয়ে মুক্তার তার আগের স্ত্রীকে বাপের বাড়ি পাঠিয়ে দিয়ে শম্পাকে নিয়ে সংসার করে প্রায় ১৫ দিন এরপর আবার টাকার জন্য শম্পাকে মারধর করলে শম্পা নিজ বাড়িতে ফিরে এসে আদালতে একটি যৌতুক নিরোধ আইনের ৪ ধারা মামলা দায়ের করে যাহার মামলা নং ১২১৬/১৭। ওই মামলায় পুলিশ মুক্তারকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠায়। জামিনে বেড়িয়ে মুক্তার পল্লবী এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে সুকৌশলে শম্পাকে ডেকে নিয়ে শম্পা ও তার সন্তানকে বেধড়ক মারধর করে। এঘটনায় শম্পা স্থানীয় পল্লবী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করে যার মামলা নং ৩১(৮)২০১৯। ওই মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা ২৩/১১/২০১৯ চার্জশীট দাখিল করে যাহার নং-১০৫০। মামলাটি বর্তমানে ঢাকার বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল নং-২ এ নারী ও শিশু মামলা নং ২৮/২০২০ হিসেবে স্বাক্ষীর জন্য আছে।

মুক্তার একজন জনপ্রতিনিধি হওয়ার কারণে সে প্রতিনিয়িত তার দ্বিতীয় স্ত্রী শম্পাকে হুমকি ধামকি দিচ্ছে যার কারনে শম্পা মুক্তারের জনপ্রতিনিধি বরখাস্তের জন্য স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রাণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবের কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছে। অবশ্য মুক্তারের এলাকার স্থানীয় বাসিন্দার নাম না প্রকাশ করার শর্তে জানান মুক্তার মেম্বার পাশবর্তী এলাকা ৩ নং ওয়ার্ডের ইয়াছিন আরাফাত বাবু মেম্বারের সাথে ধরা ছোয়ার বাইরে থেকে মাদক বাণিজ্যের সাথে যুক্ত। স্থানীয়রা আরো জানান মুক্তারে বাবাসহ বেশ ক’জন ওই এলাকায় গ্যাস সংযোগ দেবার কথা বলে প্রতি ঘর থেকে ৩০ থেকে ৮০ হাজার টাকা তুলে গায়েব করেছেন।

কে এই মুক্তার ? কিভাবে ধরা ছোঁয়ার বাইরে চলে তার বন্ধু বাবুর মেম্বারের সাথে মাদক বাণিজ্য ? বিস্তারিত জানতে চোখ রাখুন দিকদর্শনে,

Comments are closed.

     More News Of This Category

follow us on facebook page