11th, August, 2022, 8:36 am

বিভিন্ন জায়গায় আঘাত হানছে কালবৈশাখী

নিজেস্ব প্রতিনিধি : দেশের বিভিন্ন স্থানে ছোবল মারতে শুরু করেছে কালবৈশাখী। বৈশাখের শুরুতেই শুরু হওয়া কালবৈশাখীর সাথে বৃষ্টি ও বজ্রপাতকও ঘটছে। ফলে করোনা ভয়ে ঘরে বন্দী থাকা সাধারণ মানুষের ভ্যাপসা গরমের হাত থেকে কিছুটা হলে স্বস্তি মিলছে। কারণ গত দু’সপ্তাহেও বেশি সময় ধরে টানা তাপপ্রবাহে ঘরবন্দি মানুষের জীবন অস্থির হয়ে উঠেছিল। কালবৈশাখী তাতে স্বস্তি নিয়ে এসেছে। দেশের কোথাও কোথাও কয়েকদিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে। এই সময়ে কালবৈশাখী তা-ব দেশের বিভিন্ন স্থানে বয়ে যেতে পারে। তার সাথে বজ্রপাতেরও আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে আবহাওয়াবিদরা আকাশে ঘনকালো মেঘ দেখা দিলেই সাধারণ মানুষকে নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। আবহাওয়া অধিদফতর সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, প্রকৃতির নিয়ম অনুযায়ী দেশে এখন কালবৈশাখীর মৌসুম চলছে। এই সময়ে ঝড়ের কারণে ব্যাপক ফসলহানীসহ নানা ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। তাছাড়া সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের পরিমাণও বেড়ে চলেছে। মে-জুন পর্যন্ত এই বজ্রপাত অব্যাহত থাকতে পারে। তাছাড়া পুরো মে মাসজুড়েই কালবৈশাখীর তা-ব চলতে পারে। দেশের উত্তরাঞ্চলে গত বুধবার কালবৈশাখী ছোবল মেরেছে। ওই কালবৈশাখীর প্রভাব রাজধানী ঢাকায়ও এসে পড়ে। তার জের ধরে আরো দুদিন ঝড়বৃষ্টির মাত্রা বাড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়। কালবৈশাখীর সময় বাতাসের গতি ছিল ৮০ থেকে ৯০ কিলোমিটার। ১৮ এপ্রিল পর্যšন্ত এই ধারাতেই কালবৈশাখী হতে পারে। ফলে রাজশাহী, ফরিদপুর, মাদারীপুর, সিলেট ও খুলনা অঞ্চলের ওপর দিয়ে প্রবাহিত দাবদাহ কিছুটা কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। সূত্র জানায়, গত ২৫ মার্চ এর পর থেকে দেশের উপর দিয়ে হয় মৃদু তাপপ্রবাহ শুরু হয়ে তা পহেলা বৈশাখ পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। তারপরই শুরু হয়েছে কালবৈশাখীর ঝড়। তবে ১৮ এপ্রিলের পর থেকে আবারো তাপপ্রবাহ শুরু হতে পারে। এই সময় তাপমাত্রার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গরমের মাত্রা আরো বেড়ে যাওযার আশঙ্কা রয়েছে। করোনা ভয়ে মানুষ এখন ঘরবন্দী জীবনযাবন করছে। এই সঙ্গে গরমের মাত্রা বেড়ে গেলে তখন পরিস্থিতি আরো অসহনীয় করে উঠতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদী আবহাওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এপ্রিল মাসে দেশের উত্তর থেকে মধ্যাঞ্চল পর্যন্ত ৩ থেকে ৪ দিন বজ্রসহ মাঝারি বা তীব্র কালবৈশাখী এবং দেশের অন্যত্র ৪ থেকে ৫ দিন হাল্কা বা মাঝারি কালবৈশাখী হতে পারে। এ মাসে দেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে একটি তীব্র তাপপ্রবাহ (৪০ ডিগ্রী সেলসিয়াসের বেশি) এবং অন্যত্র এক থেকে দুটি মৃদু (৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রী সেলসিয়াস) বা মাঝারি (৩৮ এর চেয়ে বেশি ৪০ ডিগ্রী সেলসিয়াস) তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। সূত্র আরো জানায়, বৈশাখে কালবৈশাখী হবে এটাই স্বাভাবিক। এই কালবৈশাখী একটানা মে মাস পর্যন্ত চলতে পারে। এই সময়ে কালবৈশাখী এবং বজ্রপাতের জন্য যে মেঘ সবচেয়ে বেশি দায়ি তা হলো কিউমুলো নিমবাস মেঘ। চৈত্র-বৈশাখ মাসে এই মেঘ থেকেই সাধারণত কালবৈশাখী ও বজ্রপাতের সৃষ্টি হয়। এই সময় উত্তর-পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিম আকাশে হঠাৎ এই ধরনের মেঘ জমে মুহূর্তের মধ্যে চারদিকে ছড়িয়ে যায়। এই সময় আকাশে এই ধরনের মেঘ জমলে কালবৈশাখী ও বজ্রপাতের আশঙ্কা শতভাগ বেড়ে যায়। বর্তমানে বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণে বাংলাদেশে চৈত্র-বৈশাখ মাসে কিউমুলো নিমবাস মেঘ বেশি জমছে। এই কিউমুলো নিমবাস মেঘ থেকে সৃষ্টি হয় কালবৈশাখী। এই মেঘেই দেখা দেয় বজ্রপাত। এই ধরনের মেঘ দেখা দিলেও নিরাপদ দূরত্বে চলে যাওয়া উচিত। এদিকে আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশাখের শুরুতেই টানা বৃষ্টি না হলেও মাঝে মাঝে কালবৈশাখীসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টির সময় তাপমাত্রা কিছুটা কমবে। তবে বৃষ্টি কমে গেলেই তাপমাত্রা আবার বাড়বে। সেই সঙ্গে বেড়ে যাবে গরমের মাত্রা। বর্তমানে বাতাসে প্রচুর জলীয়বাষ্প রয়েছে। এই বাতাস দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর থেকে উপকূলীয় অঞ্চলে আসছে। দেশের উত্তরাঞ্চলে গত বুধবার সকাল থেকে প্রচ- ঝড় বয়ে গেছে। এই মেঘমালা দেশের পূর্বাঞ্চলের দিকে সরে আসছে। ফলে ঢাকাসহ মধ্যাঞ্চলেও কালবৈশাখী হতে পারে। তাছাড়া চলতি এপ্রিলের তৃতীয় সপ্তাহে সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। অন্যদিকে এ প্রসঙ্গে আবহাওয়াবিদ আরিফ হোসেন জানান, গ্রীষ্মের শুরুতেই দেশের কোথাও কোথাও একটি তীব্র তাপপ্রবাহ (তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রী সেলসিয়াসের উপরে) বয়ে যেতে পারে।
একই প্রসঙ্গে আবহাওয়াবিদ রাশেদুজ্জামান জানান, এখন দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিপাত, কালবৈশাখীর ঝড় ও বজ্রঝড় হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই সময়ে তাপমাত্রা কিছুটা কম থাকলেও পরবর্তীতে তাপমাত্রা আরো বেড়ে যাবে।

Comments are closed.

     More News Of This Category

follow us on facebook page