আজ [bangla_date], [english_date]

বাণিজ্যিক জাহাজে হুতিদের আক্রমণ, তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা

ডেস্ক সংবাদ : লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হুতিদের ক্রমাগত আক্রমণের কারণে তেল ও অন্যান্য পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন। ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহীরা জাহাজে হামলার পর বেশ কয়েকটি সংস্থা এই রুটে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম শিপিং লাইন মারস্ক বলেছে, ‘কেপ অব গুড হোপের (দক্ষিণ আফ্রিকার কেপ উপদ্বীপের আটলান্টিক উপকূল) চারপাশ দিয়ে কিছু জাহাজ চলাচল করবে। লোহিত সাগরে জাহাজের নিরাপত্তা রক্ষার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একটি আন্তর্জাতিক নৌ অভিযান শুরু করেছে। নিরাপত্তা গ্রুপে যোগদানকারী দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাজ্য, কানাডা, ফ্রান্স, বাহরাইন, নরওয়ে ও স্পেন। মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী লয়েড অস্টিন বলেছেন, ‘ইয়েমেনের বেপরোয়া হুতি হামলা সাম্প্রতিক সময়ে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে বাণিজ্যের অবাধ প্রবাহ হুমকির মুখে পড়েছে। নিরপরাধ নাবিকদের বিপদে ফেলেছে এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করছে। লোহিত সাগর তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের চালানের পাশাপাশি ভোগ্যপণ্যের জন্য বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট। তেল জায়ান্ট বিপি গতকাল সোমবার বলেছে, অস্থায়ীভাবে মূল বাণিজ্যিক রুট দিয়ে  অপরিশোধিত তেলের সব চালান থামিয়ে দেবে।

রপ্তানি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক মার্কো ফোরজিওনা বিবিসি টুডেকে বলেছেন, ‘কেপ অব গুড হোপের বিকল্প রুট দিয়ে চলাচল করলে জাহাজগুলো গন্তব্যে পৌঁছাতে প্রায় দুই সপ্তাহ বিলম্ব হতে পারে। এ ছাড়া অতিরিক্ত সময়ের পাশাপাশি জ্বালানি এবং বীমার জন্য অতিরিক্ত খরচ গুনতে হবে। তারপর আপনি আরো যে সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন তা হলো, জাহাজগুলো ভুল জায়গায় থাকতে পারে, কন্টেইনারগুলো ভুল জায়গায় থাকতে পারে এবং এতে পোর্টে যানজটের সম্ভাবনাও রয়েছে। এতে আরো বিলম্ব হতে পারে। সুতরাং বিশ্বব্যাপী সরবরাহ শৃঙ্খলাকে প্রভাবিত করবে। এসএন্ডপি গ্লোবাল মার্কেট ইন্টেলিজেন্স জানিয়েছে, ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য এবং উত্তর আফ্রিকায় আমদানিকৃত পণ্যের প্রায় ১৫ শতাংশ সমুদ্রপথে এশিয়া এবং উপসাগর থেকে পাঠানো হয়। এর মধ্যে রয়েছে ২১.৫ শতাংশ পরিশোধিত তেল এবং ১৩ শতাংশের বেশি অপরিশোধিত তেল। তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে উচ্চ মূল্যস্ফীতি হতে পারে, যা মূল্য বৃদ্ধির গতিকে বাড়িয়ে দিতে পারে। ইউকেতে মুদ্রাস্ফীতি কমেছে এবং বর্তমানে ৪.৬ শতাংশ। এই মুহুর্তে তেলের দামের পরিবর্তনও নূন্যতম পর্যায়ে রয়েছে। হুতি বিদ্রোহীরা হামাসের প্রতি তাদের সমর্থন জানিয়ে বলেছে, ইসরায়েলের দিকে যাচ্ছে এমন বিদেশি মালিকানাধীন জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে ড্রোন এবং রকেট হামলা করছে তারা। কিছু সংস্থা বলেছে, তাদের জাহাজের সঙ্গে ইসরায়েলের কোনো সম্পর্ক নেই, তাবু আক্রমণের শিকার হয়েছে। ৭ অক্টোবরের পর থেকে এই হামলা আরো বেড়েছে। তাই জাহাজগুলো বাব আল-মান্দাব প্রণালী ব্যবহার করার পরিবর্তে এখন দক্ষিণ আফ্রিকার কেপ অব গুড হোপের চারপাশ দিয়ে দীর্ঘ পথে চলাচল করতে হবে।

Comments are closed.

     More News Of This Category

follow us on facebook page