15th, August, 2022, 1:46 am

বাংলা মদ বিক্রেতা আব্বাস এখন কোটিপতি আওয়ামী নেতা

মীর আলাউদ্দিন ও মো: সোলায়মান : রাজধানী মিরপুরের মানিকদী এলাকার তাড়ি ও বাংলা মদ বিক্রেতা আব্বাস এখন কোটিপতি ও আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী নেতা। টাকা আর ক্ষমতার প্রভাব বিস্তার করে হাতিয়ে নেন ক্যান্টনমেন্ট থানা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদটিও। মাত্র এক দেড় যুগ আগে জেলের কাজের পাশাপাশি তারি বাংলা মদ বিক্রেতা আব্বাস রীতিমতো আতংঙ্ক মানিকদী ক্যান্টনমেন্ট এলাকার জনসাধারণের কাছে। এদেশের সব ডিবি র‌্যাব পুলিশ আমার হাতে প্রকাশ্যে এমন বলে আরো বেশি আতংঙ্কে রাখেন এলাকাবাসীকে। তার দৃশ্যমান কোন ব্যবসা বাণিজ্য না থাকলেও তিনি লেনদেনের ক্ষেত্রে ব্যাংকের সেরা গ্রাহক এর উপাধি পান প্রতি বছর। নিজ এলাকায় তিনি সাইলেন্ট মাফিয়া নামেই বেশি পরিচিত। নিজ এলাকায় ও এলাকার বাইরে রয়েছে তার কোটি কোটি টাকার ব্যবসা বাণিজ্য। নিজ স্ত্রীর নামে গড়েছেন অগাধ সম্পদ। নরসিংদীর আগে কালিগঞ্জে তার স্ত্রী ও আত্নীয় স্বজনের নামে করেছিলেন কোটি কোটি টাকার সম্পদ। মানিকদী, পল্লবী, নামাপাড়াসহ রাজধানী ঢাকার মধ্যে নামে বেনামে গড়েছেন একাধিক ফ্ল্যাট ও প্লট।

স্থানীয় দলীয় নেতাকর্মীরাসহ গোটা মানিকদী এলাকায় তার নামে আতংঙ্ক বিরাজ করে। নিজ এলাকায় কেউ জায়গা জমি কিনলে বা বাড়ি বানাতে হলে তার ইচ্ছের বাইরে কেউ করতে পারে না বলেও অভিযোগ রয়েছে। কোমরে প্রকাশ্যে পিস্তল দুলিয়ে এলাকায় তার বিচরণ অনেকটা ডন স্টাইলে। তার ইচ্ছের বাইরে কেউ চললেই নিজ গঠিত অস্ত্রধারী বাহিনী দিয়ে তার জায়গা জমি জোর করে নিজ কব্জায় নিয়ে নেয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। জায়গা জমি দখলবাজি নিয়ে একাধিক হত্যা কান্ডের পিছনে তার হাত রয়েছে বলে জানা যায়। তার তারি বিক্রেতা বাবা ইব্রাহিম মানিকদীতে বসবাস করার সুবাধে পরিচয় হয় এলাকার বেশ কিছু সেনা কর্মকতাদের সাথে। এক সময় তার বাবার চাকুরী জুটে সি এম এইচ এর মালীর কাজে। মালীর কাজের পাশাপাশি আব্বাসের বাবা ইব্রাহিম চালতে থাকে তারি ও বাংলা মদের ব্যবসা। ছেলে আব্বাস উদ্দিন বাবার হাত ধরেই মাছ ধরার পাশাপাশি শুরু করে তারি ও বাংলা মদের ব্যবসা। মদ বিক্রির সুবাধে আব্বাস মহল্লার ভিতরে হয়ে উঠে প্রভাবশালী।

মৃত আওয়ামী নেত্রী সাহারা খাতুনের বাড়ি মানিকদী হবার কারণে সখ্যতা হয় তার সাথে। সাহারা খাতুনের পরামর্শে যোগ দেয় জাতীয় পার্টিতে। রাজনীতির পাশপাশি আরো সচল হয় আব্বাসের মাদক ব্যবসা। নতুন করে আব্বাস শুরু করে জায়গা জমির মাটি ভরাট এর কাজ। বেশ ভালো আয় হবার কারণে জনপ্রিয় হয়ে উঠে আব্বাস। এলাকার মধ্যে নাম ডাক বাড়তে থাকে তার। আওয়ামী সরকার ক্ষমতায় আসার পরে সে আওয়ামীলীগে যোগ দেয়। সাহারা খাতুনের সরাসরি প্রশয়ে বাড়তে থাকে তার অপরাধ কার্যক্রম। দলীয় সাইনবোর্ডের সুবাধে তার সখ্যতা হয় ফারুক খানসহ একাধিক নেতাদের সাথে। সবার সাথে সুম্পর্ক গড়ে আব্বাস গঠন করেছে বিশাল এক বাহিনী। বর্তমানে তার নিয়ন্ত্রনে রয়েছে প্রায় ৫ শতাধিক অপরাধীদের বাহিনী। আব্বাস উদ্দিন এর দুইটা গাড়ী নোহা ও প্রাইভেট কার আছে। বছরখানেক আগে কোটি টাকা দিয়ে বিলাস বহুল গাড়ি কিনলেও শুদ্ধি অভিযানের সময় তা বিক্রি করে দেন। ১৫ বছর আগে তার মাটির তৈরি ঘরে পরিবারের সবাইকে নিয়ে বসবাস করা আব্বাসের রাতারাতি পরিবর্তন হওয়া নিয়ে মানিকদী এলাকায় বেশ গুঞ্জন হলেও তার ক্ষমতার দাপটে সবাই চুপ থাকে।

জানা যায় রিয়েল এষ্টেট কোম্পানি অনলাইন গুরুপের সাথে থেকে দখলবাজির কাজ করে। অনলাইন গুরুপের মালিক আক্তারের সাথে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে। ছাত্রলীগের যুগ্ন সম্পাদক ঢাকা মহানগর উত্তর এর এক মহিলা নেত্রীর সাথে অবৈধ সম্পর্কে ছিল পরবতীতে তাকে একটা প্রতিষ্ঠানে চাকুরিও জুটিয়ে দেয়। পুরনো এক মাদক ব্যবসায়ী পার্টনার এর বোন রুমার সাথে অবৈধ্য সর্ম্পক করে কৌশলে তাদের সম্পত্তি হাতিয়ে নেয় আব্বাস। মাটিকাটার রিতা নামে এক দেহ ব্যবসায়ীর এর মাধ্যমে আব্বাস বড় বড় নেতাদের বিভিন্ন জায়গায় ও অভিজাত হোটেলে মনোরঞ্জনের জন্য মেয়েদের সরবরাহ করে নিজের কাজ হাসিল করে বলেও জানান একটি সুত্র। সেই গুরুপে ২৫/৪০ জনের মত মেয়ে কাজ করে বলে জানা যায়। বুলুমুন এর সামনে মেইন রাস্তার সাথে ১৪ কাটা জায়গা নিয়ে আব্বাসের সন্ত্রাসী গুরুপের সাথে ভাসানটেকের সন্ত্রাসী জুবরাজ গুরুপের সাথে গুলাগুলির ঘটনা ঘটিয়ে রাতারাতি সব সন্ত্রাসী গ্রুপের সাথে আতাত করে নিজ নিয়ন্ত্রনে নেয়। কাজী এ্যাসপ্যারগাস এর ভিতরে সব দোকানদারকে নিয়মিত চাঁদা দিতে হয় তার ছোট ভাইকে। ক্ষমতার প্রভাবে মাটিকাটার সব মসজিদ মাদ্রাসার স্বঘোষিত সভাপতি আব্বাস ও তার অবৈধ ব্যবসায় পার্টনার সপু। সপু মধুমতি খামার নিয়ে খোকন হত্যা মামলার আসামি ক্যান্টনমেন্ট থানায় সে মামলা এখনো চলমান। এই হত্যার পিছনে আব্বাসের পরোক্ষ হাত ছিল বলে জানা যায়।

তার আরেক সহযোগী ডাকাত দিনার তার হয়ে বিভিন্ন অপরাধ মূলক কাজ করতো। ডাকাত দিনার মারা যাওয়ার পর তার বাহিনী নিজ নিয়ন্ত্রণে নেয় আব্বাস। বর্তমানে আব্বাসের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে অস্ত্র মাদক সহ সকল অপরাধ বাণিজ্য। নিশাণ ও আব্বাসের ভাই এখন বিভিন্ন কিলিং মিশনে অংশ নেয়। আল আমিন নামের এক ক্যাডার রয়েছে সে দুর থেকে আব্বাসের হয়ে কাজ করে। পুরো জোয়ার সাহারা মৌজা রয়েছে আব্বাসের একক নিয়ন্ত্রণে। আব্বাস ফারুককে ৪ কাঠা জমি রেজিষ্টি করে দিয়েছে বলেও জনশ্রুতি রয়েছে। বর্তমানে তার নিয়ন্ত্রণে ৪টি সক্রিয় বাহিনীর একটি গ্রুপ আছে বলে জানা গেছে। এক গ্রুপ মাঠি ভরাট এর কাজে নিয়োজিত, আরেকটি গ্রুপ রিয়েল এষ্টেট এর কাজ দখলে নেবার কাজে নিয়োজিত, আরেকটি গ্রুপ কাজ হাসিলের জন্য বিভিন্ন মেয়েদের সাপ্লাই দিয়ে থাকে এবং অন্য গ্রুপ কিলিং মিশনে অংশ গ্রহন করে। আব্বাসের সকল কাজে যুবলীগের নিখিল, ফারুক খান, ফারুক সকল প্রকার সহায়তা করেন বলে এলাকাবাসী জানান। কাজী এসপ্যারাগাস এর জায়গা নিয়ন্ত্রণে নেবার জন্য ৩ টি খুনের পিছনেও আব্বাসের হাত রয়েছে বলে অনেকে মনে করেন। সেই জায়াগার মালিক ছিল গাজীপুরের। বর্তমানে আব্বাসের নিয়ন্ত্রনেই রয়েছে ওই এলাকার সকল মাদক ব্যবসা। ধরা ছোয়ার বাইরে থেকে আব্বাস এসব নিয়ন্ত্রন করে শাহরিয়ার রাসেল ওরফে কাউয়া রাসেল, মাসুদ ওরফে গলা কাটা মাসুদ, শিপলুসহ বেশ ক’জনকে দিয়ে। এরা সকলেই অস্ত্র মাদকসহ একাধিক মামলার আসামী এবং তারা একাধিকবার র‌্যাব পুলিশের কাছে অস্ত্র মাদকসহ ধরাশায়ীও হয়েছেন। গোটা মানিকদী এলাকায় পরিবহন চাঁদাবাজিও তার ইশারায় চলে বলে জানা গেছে। এসব বিষয়ে জানতে আব্বাসের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায় নি।

Comments are closed.

     More News Of This Category

follow us on facebook page