13th, August, 2022, 12:08 am

বন্ধ করা হচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল

নিজেস্ব প্রতিনিধি : বছরের পর বছর ধরেই লোকসানে চলছে দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলো। সরকারি ভর্তুকির মাধ্যমে ওসব প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হচ্ছিল। বর্তমানে ২৫টি পাটকলে প্রায় ২৫ হাজার শ্রমিকের বেতন-ভাতা নিয়মিতভাবেই বকেয়া হয়ে পড়ছে। আর পাওনা আদায়ের জন্য ওই শ্রমিকদের প্রায়ই আন্দোলনে নামতে হয়। তাছাড়া আবার বিগত বছরগুলোয় সরকারি পাটকলগুলো থেকে যারা অবসরে গেছেন তাদেরও অবসর সুবিধা বাবদ বিপুল পরিমাণ টাকা পাওনা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ক্রমাগত লোকসানের বোঝা থেকে বেরিয়ে আসতে বাংলাদেশ জুট মিল কর্পোরেশনের (বিজেএমসি) অধীনে থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের কার্যক্রম বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। অনেক দিন ধরেই রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলো লোকসান গুনছে। চলতি অর্থবছরেও ওই লোকসানের পরিমাণ ৬০০ কোটি টাকা হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় সচল রাখার চেষ্টায় গত এক দশকে সরকারি পাটকলগুলোকে সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকারও বেশি ভর্তুকি দেয়া হয়েছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে পাটকল বন্ধ করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। তবে পরবর্তী সময়ে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারির (পিপিপি) ভিত্তিতে পুনরায় ওই পাটকলগুলো চালু করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকেও এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পক্ষে মত দেয়া হয়েছে। বিজেএমসির অধীনে একসময় ৭৬টি পাটকল ছিল। কিন্তু বিভিন্ন সময়ে বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেয়ার কারণে ওই সংখ্যা এখন ২৫টিতে নেমে এসেছে। তার মধ্যে তিনটি পাটবহির্ভূত কারখানা। ওই হিসেবে সরকারি পাটকলের সংখ্যা মাত্র ২২টি। ওসব পাটকলে কাজ করে প্রায় ২৫ হাজার শ্রমিক। কয়েক বছর আগে দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলোর সংস্কারের জন্য চীনের সরকারি প্রতিষ্ঠান চায়না টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রিয়াল করপোরেশন ফর ফরেন ইকোনমিক অ্যান্ড টেকনিক্যাল করপোরেশনের (সিটিইএক্সআইসি) কারিগরি সহায়তা নেয়ার জন্য একটি সমঝোতা চুক্তি সই হয়েছিল। সিটিইএক্সআইসির জরিপ মতে, পাটকলগুলোর বিদ্যমান পুরনো যন্ত্রপাতি সংস্কার করে কোনো লাভ হবে না। ওসব প্রতিষ্ঠানের সবই বদলাতে হবে। সার্বিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় পিপিপির ভিত্তিতে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল পরিচালনার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারে সরকার। সম্প্রতি বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় সরকারের দিকনির্দেশনার ভিত্তিতে লোকসানে চলা পাটকলগুলোর বোঝা থেকে মুক্ত হওয়ার বিষয়ে কর্মপরিকল্পনার একটি সারাংশ প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে পাঠায়। প্রধানমন্ত্রী ওই সারাংশে সই করে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পক্ষে অভিমত দিয়েছেন। সরকারের ইতিবাচক সাড়া পেয়ে ইতিমধ্যে তা বাস্তবায়নে প্রস্তুতি শুরু করেছে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়। ইতিমধ্যে প্রথম প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে ওই সভায় পাটকল কার্যক্রম বন্ধের প্রক্রিয়া ও পদ্ধতির বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে পাটকলগুলোর কার্যক্রম বন্ধের লক্ষ্যে কী কী করা যেতে পারে তা আলোচনা হয়েছে। তার মধ্যে ২০১৪ সালের পর থেকে অবসরে যাওয়া ন্যূনতম ৬ হাজার শ্রমিকের অবসর সুবিধা পরিশোধের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। এদিকে সরকারি পাটকল বন্ধ করে দেয়া প্রসঙ্গে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী বীরপ্রতীক গণমাধ্যমকে জানান, দেশের পাট খাতে ব্যক্তি খাতের অংশ এখন ৯৫ শতাংশ। সরকারি মিলগুলোর অংশ মাত্র ৫ শতাংশ। সরকারি পাটকলগুলোতে ক্রমাগত লোকসানের টাকা দেয়ার ক্ষমতা সরকারের নেই। শ্রমিকদেরও সবসময় আন্দোলন করে টাকা আদায় করতে হয়। ৯ হাজার কর্মী এখনো পেনশনের টাকা পায়নি। তাছাড়া আগে সরকারি মিলগুলোকে বিক্রি করে দেয়া হয়েছিল। কিন্তু এখন বিক্রি না করে জুট মিল রাখা হবে। তবে এমন ম্যানেজমেন্ট দেয়া হবে যাতে লোক ছাঁটাই না হয়। শ্রমিকরা সেখানেই চাকরি পাবে, কারণ দক্ষ কর্মী ছাড়া মিল চালাতে দেয়া হবে না। মিলগুলো বুঝে পাওয়ার পর টেন্ডার হবে। যাকে মিল দেয়া হবে তাকে অবশ্যই পাটকল পরিচালনায় দক্ষ হতে হবে। আর মিলের জমি নেয়ার চেষ্টা করলে তা দেয়া হবে না। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন বঙ্গবন্ধু পাটের জন্য আন্দোলন করেছেন, সুতরাং পাটকে আমাদের রাখতে হবে। পিপিপির মাধ্যমে জুট মিল থাকবে, এটা ডিসাইডেড।

Comments are closed.

     More News Of This Category

follow us on facebook page