9th, August, 2022, 11:19 am

বদলে যাওয়া গ্রাম দামোদরপুর

নিজস্ব প্রতিনিধি : অতীতে গ্রামটির অধিকাংশ মানুষ ছিল অসচ্ছল। অনেকের দিন কেটেছে অনাহারে-অর্ধাহারে। বেশির ভাগ মানুষই থাকতেন ঝুপড়িতে। সেসব দিন এখন গল্প। গল্পের সেই গ্রাম ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার দামোদরপুর। এ গ্রামের প্রায় এক হাজার মানুষ প্রবাসে থাকেন। তাদের উপার্জনে গ্রামের নড়বড়ে ঝুপড়ি গুলো রূপ নিয়েছে পাকা দালানে। সরেজমিনে দেখা গেছে, রঙ-বেরঙের নকশায় সাজানো প্রতিটি দালান। যা হার মানিয়েছে শহরের বাড়ি গুলোকেও। শুধু বাড়িই নয়, উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে গ্রামীন অবকাঠামোতেও। গ্রামবাসিরা জানান, আয়তন ও লোকসংখ্যার দিক দিয়ে গ্রামটির অবস্থান উপজেলার মধ্যে বড়। প্রবাসীদের সংখ্যায়ও রয়েছে শীর্ষে। শুধু উপজেলাই নয়, দেশের মধ্যে অন্যতম। উপজেলা পরিসংখ্যান ও নির্বাচন অফিসের তথ্যমতে, ২০১১ সালের শুমারি অনুযায়ী দামোদরপুর গ্রামের জনসংখ্যা ছিল তিন হাজার ৯৯৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ এক হাজার ৯৩৮ ও নারী দুই হাজার ৫৮ জন। একই বছরের ভোটার তালিকা অনুযায়ী এ গ্রামের ভোটার সংখ্যা দুই হাজার ৯৪৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ এক হাজার ৪৮১ ও নারী এক হাজার ৪৬২ জন। দামোদরপুর গ্রামের আক্কাছ আলী জানান, ১৯৮০ সালে এ গ্রাম থেকে তিনিই প্রথম লিবিয়াতে গিয়েছিলেন। সেখানে দুই বছর থাকার পর বেতন কম হওয়ায় ফিরে আসেন। ১৯৮২ সালে সৌদি আরব যান। পরে গ্রামের মসলেম উদ্দীন, ইসমাইল হোসেনসহ বেশ কয়েকজনকে তিনি নেন। তারা স্বজনসহ গ্রামবাসীদের বিদেশে নিতেন। এভাবেই বাড়তে থাকে প্রবাসীদের সংখ্যা। তিনি আরো জানান, গ্রামের অনেকেই কর্মক্ষম যুবকদের প্রবাসে পাঠাতে কাজ করেছেন। তবে এ কাজে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছেন মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম। সবচেয়ে বেশি দিন প্রবাসে জীবন কাটানো সুলতান আহমেদ জানান, তিনি ১৯৮৬ সালে মালয়েশিয়াতে গিয়েছিলেন। প্রায় ৩৪ বছর প্রবাস জীবন কাটিয়ে তিন মাস আগে একবারে চলে আসেন। তিনি আরো জানান, প্রবাসে থেকে টাকা পাঠিয়ে নিজের ভাই-ভাতিজাসহ গ্রামের অনেককে নিয়েছেন। তাদের যৌথ পরিবারে পুরুষ ছিল ১১ জন। এক সময় ১০ জন প্রবাসে ছিলেন। কোলা ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান ডা. নুরুল ইসলাম জানান, কৃষি নির্ভর এ গ্রামটির অর্থনৈতিক অবস্থা ছিল অনেক দুর্বল। সে সময়ে প্রায় সব বাড়িতেই অভাব লেগে থাকতো। কিন্তু বর্তমানে প্রায় এক হাজার মানুষ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত রয়েছেন। তিনি আরো জানান, দীর্ঘ সময় প্রবাসে কাটানোর পর অনেকেই পার্শ্ববর্তী শহর ও গ্রামে জমি কিনে আলিশান বাড়ি করছেন। যারা ২০ বছর আগে গ্রামটি দেখেছেন তারা এখন এসব বাড়ি দেখে অবাক হন। সমাজসেবক হারুন অর রশিদ মোল্লা জানান, এ গ্রামের প্রবাসীরা শুধু নিজেদের ভাগ্যের উন্নয়ন ঘটাননি, রেমিট্যান্স পাঠিয়ে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নেও ব্যাপক ভূমিকা রাখছেন। গ্রামের সব মানুষই বন্ধু ভাবাপন্ন। অন্য গ্রামের চেয়ে এ গ্রাম অনেক ভিন্ন। জেলা কর্মসংস্থান ও শ্রম অধিদফতরের সহকারী পরিচালক সৌমিতা রানী মজুমদার জানান, শ্রমশক্তি রফতানিতে জেলার কোন গ্রামের মানুষ এগিয়ে এমন হিসাব নেই। তবে দামোদরপুর গ্রামের অনেক কর্মক্ষম মানুষ প্রবাসে রয়েছেন। তাদের অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রার একদিকে আর্থিক সচ্ছলতা ফিরছে, অন্যদিকে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নেও ভূমিকা রয়েছে।

Comments are closed.

     More News Of This Category

follow us on facebook page