12th, August, 2022, 11:20 pm

সুপার কাপ ফাইনালে মাদ্রিদ ডার্বি

ফাইনালে মাদ্রিদ ডার্বি

নিজেস্ব প্রতিবেদক : ২০১৬ সাল থেকে আতলেতিকো মাদ্রিদের কাছে হারেনি বার্সেলোনা। বৃহস্পতিবার সৌদি আরবের জেদ্দায় স্প্যানিশ সুপার কাপের সেমিফাইনালেও মনে হচ্ছিল, তারাই জিতবে। কিন্তু না, জিতলো আতলেতিকো। জেদ্দায় ৫ গোলের রোমাঞ্চে ৩-২ এ বার্সাকে হারিয়ে ফাইনালে মাদ্রিদ ডার্বি নিশ্চিত করলো ডিয়েগো সিমিওনের দল। কিং আব্দুল্লাহ স্পোর্টস সিটি স্টেডিয়ামে পূর্ণ শক্তির দল নিয়ে নেমেছিল বার্সেলোনা ও আতলেতিকো। প্রথমার্ধে গোল করা ছাড়া সব দিক থেকে এগিয়ে ছিল কাতালান জায়ান্টরা। ৭৫ শতাংশ বল দখলের পাশাপাশি মাদ্রিদ ক্লাবের ডিবক্সে ছিল লিওনেল মেসি, আতোঁয়ান গ্রিজমান ও লুইস সুয়ারেসের সরব উপস্থিতি। জোর্দি আলবার সঙ্গে ওয়ান-টু পাসে মেসি কঠিন পরীক্ষা নেন জ্যান ওবলাকের। আতলেতিকো গোলকিপার সুন্দর সেভে আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডকে হতাশ করেন। গ্রিজমানের চমৎকার চিপ বাধা পায় ওবলাকের সামনে। বার্সার জন্য গোলমুখ খোলা ছিল যেন সময়ের ব্যাপার। কিন্তু তাদের আটকে রাখে আতলেতিকো। বিরতিতে যাওয়ার ঠিক আগে ম্যাচে উত্তেজনা ছড়ায় সুয়ারেস ও জোয়াও ফেলিক্সের তর্কাতর্কি। হলুদ কার্ড দেখেন বার্সার উরুগুয়ান স্ট্রাইকার। সতীর্থর পাশে দাঁড়াতে এসে আতলেতিকোর স্তেফান সেভিচও পান হলুদ কার্ড। দ্বিতীয়ার্ধে হেক্টর হেরেরার বদলি করে কোকেকে মাঠে নামান ডিয়েগো সিমিওনে। এর ২০ সেকেন্ড যেতেই এগিয়ে যায় আতলেতিকো। আনহেল কোরেয়ার চতুর অ্যাসিস্টে বল পায়ে নিয়ে হোঁচট খেলেও ১৫ গজ দূর থেকে জালে বল জড়ান কোকে। বার্সেলোনা সমতায় ফেরে ৫১ মিনিটে। সুয়ারেসের বাড়িয়ে দেওয়া বলে সাভিচের চ্যালেঞ্জের মুখে ডানপায়ের কোনাকুনি শটে মেসির গোল। ম্যাচ ঘণ্টার কাঁটায় না পৌঁছাতেই দ্বিতীয় গোল করেছিলেন আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড। উঁচু দিয়ে আসা বল বক্সের প্রান্তে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ঠিকানা খুঁজে পান, কিন্তু ভিএআরে ধরা পড়ে ষষ্ঠ ব্যালন ডি’অর জয়ীর হাতে লেগেছিল বল। ৬২ মিনিটে সাবেক ক্লাবের বিপক্ষে গ্রিজমানের উদযাপন। সুয়ারেসের হেড দারুণভাবে ফিরিয়ে দিলেও মাত্র ৫ গজ দূর থেকে নেওয়া শটে ফরাসি ফরোয়ার্ড এগিয়ে দেন বার্সাকে। তারা স্কোর ৩-১ করে ফেলেছিল। কিন্তু আবারও ভিএআর হতাশ করে তাদের। মেসির ফ্রি কিক থেকে আর্তুরো ভিদালের পাসে জেরার্দ পিকে ঠিকানা খুঁজে পান। চিলিয়ান স্ট্রাইকারের সূক্ষ্ম অফসাইডে গোলটি বাতিল হয়। দুটি গোল বাতিলের হতাশা কাটতে না কাটতেই বড় ধাক্কা খায় বার্সা। তাদের গোলকিপার নেতো ডিবক্সের মধ্যে ফেলে দেন ভিতোলোকে। ৮১ মিনিটের পেনাল্টি গোলে আতলেতিকোকে সমতায় ফেরান আলভারো মোরাতা। কয়েক মিনিট পর তার ক্রস পিকের হাতে লাগলে দ্বিতীয় পেনাল্টির আবেদন জানায় মাদ্রিদ ক্লাব। রেফারি তাদের পক্ষে সাড়া দেননি। এই সিদ্ধান্ত বার্সার পক্ষে গেলেও হার এড়াতে পারেনি। ডাগআউটে সিমিওনেকে উদযাপনের মুহূর্ত এনে দেন কোরেয়া। মোরাতার চমৎকার পাসে নেতোকে বোকা বানিয়ে ৮৬ মিনিটে গোল করেন আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড। আগামী ১২ জানুয়ারি রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে এ মাঠেই হবে শিরোপার লড়াই। এবারই নতুন আঙ্গিকে চার দলের প্রতিযোগিতা হচ্ছে। লা লিগা ও কোপা দেল রের চ্যাম্পিয়নের দুই লেগের লড়াইয়ের প্রচলিত ধারা ভেঙে গেছে এবার। লিগ ও কাপের দুই চ্যাম্পিয়নের সঙ্গে যোগ দিয়েছে লিগের দ্বিতীয় ও তৃতীয় দল।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

     More News Of This Category

follow us on facebook page