20th, August, 2022, 1:39 am

ফলন বিপর্যয়ের শঙ্কা

রাজবাড়ী প্রতিনিধি :  কৃষি নির্ভর রাজবাড়ী জেলায় সব ধরনের কৃষি পণ্য উৎপাদন হয়ে থাকে। বর্তমানে কৃষি জমি গুলোতে সোনালী আঁশ পাট, তিল এবং বোনা আমন ধানের আবাদ হয়েছে মাঠে। কিন্তু আবাদি এ জমি গুলোতে প্রচুর পরিমানে আগাছা ও ঘাসের কারণে পাট, তিল ও বোনা আমন ধানের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। অতি বৃষ্টির কারণে আবাদি এ জমি গুলোতে অতি মাত্রায় আগাছার জন্ম হয়েছে। আর এ আগাছার কারণে আবাদি এ ফসল গুলোর ব্যাপক ভাগে ফলন বিপর্যয়ের সম্ভাবনার আমঙ্কা করছেন কৃষকেরা। একদিকে শ্রমিক সংকট অন্যদিকে অর্থাভাবে তারা সময় মত এ জমির আগাছা দমন করতে পারছেন না বলে জানান। রাজবাড়ীর ৫টি উপজেলাতে পাট, তিল ও বোনা আমন ধান আবাদ হয়েছে। কিন্তু এ আবাদি জমিতে ফসলের চাইতে আগাছাই জন্মেছে বেশি। আগাছা গুলো দেখলে মনে হবে সুন্দর ফসল জন্মেছে অথচ কৃষক যেভাবে আগাছা ক্ষেত থেকে তুলে ফেলছেন দেখে মনে হচ্ছে ঘন হওয়ার কারণে এসব ফসল কৃষক ইচ্ছে করে তুলে ফেলছেন। অথচ এসবই ক্ষেতে জন্মানো ঘাস ও আগাছা। যা ক্ষেতে আবাদি ফসলের ব্যাপক ভাবে ক্ষতি করছে। অতি বৃষ্টিপাতের কারণে এবছর রাজবাড়ীতে পাট ,তিল ও বোনা আমন ধানের ক্ষেতে আগাছা ও ঘাস জন্মানোর কারণে ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা। অনেক ফসলি ক্ষেতের ফসল এরইমধ্যে মরে গেছে। বর্তমান সময়ে কোন ধরনের আয় না থাকায় এবং শ্রমিক না পওয়ায় তারা আবাদি ক্ষেতের আগাছা ও ঘাস ধমন করতে পারছেন না। অথার্ভাবে নিজের ক্ষেতের ফসল নিজেকেই পরিচ্ছন্ন করতে হচ্ছে। এতে ফসলী জমির আগাছা দমনে সময় নষ্ট হচ্ছে। আর সঠিক সময়ে পরিচর্যা না করতে পেরে ফসলের ব্যপক ক্ষতি হচ্ছে। সদর উপজেলার ব্রাম্মনদিয়া গ্রামের কৃষক আবদুল মান্নাফ, জলিল ভূইয়া, সোবহান মিয়া বলেন, তারা অর্থ ব্যায় করে পাট এবং তিল আবাদ করেছেন। কিন্তু আবাদি এ ক্ষেতে প্রচুর পরিমানে আগাছা ও ঘাসের কারণে ফসল গুলো নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। যে পরিমান খরচ হয়েছে ফসল আবাদে তার চেয়ে বেশি অর্থ ব্যায় হওয়ার কথা বলেন ফসলী ক্ষেতের আগাছা পরিস্কার কেেরতে।অথচ এ সময়ে তারা ক্ষেতের এ আগাছা পরিচ্ছন্ন করতে তাদের অর্থের কোন ধরনের যোগান নেই। তাই কৃষি অফিসের সহযোগীতা এখন প্রয়োজন বলে মনে করনে। ফসলেও চাইতে এখন শ্রমিকের মজুরিই বেশি। একদিকে শ্রমিক সংকট অন্যদিকে শ্রমিকের অত্যধিক মজুরীর কারণে ফসলী জমির আগাছা সঠিক সময়ে তুলতে পারছেন না। এতে মারাত্বক ভাবে ফলন বিপর্যয়ের সম্ভাবনা দেখছেন তারা। রাজবাড়ী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক গোপাল কৃষ্ণ দাস বলেন, জেলায় এ বছর ৪৬ হাজার ৪শত তেতাল্লিশ হাজার হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। তিলের আবাদ হয়েছে ৫ হাজার ২শত ৫০ হেক্টর এবং এ পর্যন্ত আউশ ধানের আবাদ হয়েছে প্রায় দের হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে,আরো আবাদ বর্তমানে চলছে। তবে কৃষকদের পাট, তিল ও আউশ ধান আবাদি জমিতে আগাছা ও ঘাস জন্মেছে প্রচুর পরিমানে। করোনার প্রভাবে কিছুটা শ্রমিক সংকটে হয়েছে। আশা করছি দ্রুত এই সমস্যার সমাধান হবে। এখন বসত বাড়িতে সবজি উৎপাদনে প্রনোদনা চলছে। এ ছাড়া পাট কিংবা অন্য ফসলের প্রনোদনা আসে নাই। এই সুবিধা পেলে কৃষকরা উপকৃত হবেন বলেও তিনি মনে করেন।

Comments are closed.

     More News Of This Category

follow us on facebook page