2nd, December, 2022, 3:02 pm

পানির দাম বাড়ালো ঢাকা ওয়াসা

নিজেস্ব প্রতিনিধি :  ঢাকা ওয়াসা আবাসিক গ্রাহকদের পানির বিল ২৫ শতাংশ বাড়িয়েছে। মাত্র সাত মাসের মাথায় রাজধানীবাসীর পানির মূল্য অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি করা হয়েছে। আর বাণিজ্যিক গ্রাহকের বিল বাড়ানো হয়েছে প্রায় ৮ শতাংশ। বাড়তি পানির বিল ১ এপ্রিল থেকে কার্যকর করা হয়েছে। নতুন মূল্যহার অনুযায়ী প্রতি হাজার লিটার পানির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৪ টাকা ৪৬ পয়সা; যা আগে ছিল ১১ টাকা ৫৭ পয়সা। আর বাণিজ্যিকে প্রতি হাজার লিটারে ৩৭ টাকা ৪ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সর্বশেষ গত সেপ্টেম্বরে পানির মূল্য ৫ শতাংশ বাড়ানো হয়েছিল। মে মাসে এপ্রিল মাসের পানির বিল হাতে পেয়ে গ্রাহকরা অবাক। মাত্র সাত মাসের মাথায় পানির এতো মূল্যবৃদ্ধি রাজধানীবাসী নাখোশ। তাদের মতে, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে মানুষের আয় যখন কমে গেছে, তখন মাত্রারিক্ত পানির বিল বৃদ্ধি অমানবিক। তবে ঢাকা ওয়াসার দাবি- পানির এ মূল্যবৃদ্ধি করোনাভাইরাসের মধ্যে করা হয়নি। ভুক্তভোগী গ্রাহক এবং ঢাকা ওয়াসা সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, করোনা প্রাদুর্ভাবে মানুষের এমনিতেই আয় কমে গেছে। বন্ধ হয়ে গেছে কাজকর্ম। ফলে মানুষের জীবন চালানোই কষ্টকর হয়ে পড়েছে। এই সময়ে পানির অস্বাভাবিক মূল্য বাড়ানোকে অনেকেই যুক্তিযুক্ত মনে করছে না। তাদের মতে, বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের মূল্য অস্বাভাবিক হারে কমে গেছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই তরল জ্বালানিনির্ভর বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয়ও কমার কথা। ওয়াসাকে প্রাকৃতিক উৎসের পানি উত্তোলন করতে বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়। আর ওয়াসার লোকসান হলে তারা সরকারের কাছে বিদ্যুতের মূল্য কমানোর আবেদন করতে পারতো। কিন্তু তা না করে দেশের এ দুঃসময়ে জনগণের ঘাড়ে বাড়তি বিল চাপিয়ে দেয়া হলো। সূত্র জানায়, ওয়াসার পক্ষ বাড়ানো বিলের ক্ষেত্রে কোনো সারচার্জ নেয়া হচ্ছে বলে দাবি করা হয়। এর বিপরীতে গ্রাহকদের দাবি পানির বিলে কোনো সারচার্জ ইতিপূর্বে তারা দেননি। গত বছরের আগস্টে প্রতি হাজার লিটার পানির মূল্য ১১ টাকা ২ পয়সা হারে নির্ধারণ করা হয়। তখন পানি বিলের ওপর শুধু ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হয়েছিল। কোনো সারচার্জ ধার্য করা হয়নি। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে নতুন হার অর্থাৎ ১১ টাকা ৫৭ পয়সা হারে তাকে পানির বিল দেয়া হয়েছে। তখন যে বিল করা হয়েছে তার ওপরও শুধু ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে। কোনো সারচার্জ ধার্য করা হয়নি। আবার সাত মাসের মাথায় নতুন মূল্যহার অর্থাৎ ১৪ টাকা ৪৬ পয়সা হারে যে বিল ওয়াসা থেকে পরিবেশন করা হয়েছে, তাতেও কোনো সারচার্জ ধার্য করা হয়নি। এদিকে অস্বাভাবিক হারে পানির বিল বাড়ানো প্রসঙ্গে ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম জানান, করোনা ভাইরাসের এ মহামারীর মধ্যে পানির মূল্যবৃদ্ধি মোটেও ঠিক হয়নি। বর্তমান পরিস্থিতিতে মানুষের আয় কমে গেছে। এ সময়ে প্রয়োজনে পানির বিলের ওপর ভর্তুকি দেয়া যেতে পারে, কিন্তু সেখানে গ্রাহকের ওপর বাড়তি বিল চাপিয়ে দেয়া অমানবিক। এ অসাধু ব্যবসার মানসিকতা থেকে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের বের হয়ে আসা উচিত। বর্তমান পরিস্থিতিতে গ্রাহকদের ওপর যে বাড়তি মূল্য চাপানো হয়েছে, তা সমন্বয় করে মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত স্থগিত করতে সরকারের সর্বোচ্চ মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। একই সাথে চলতি অর্থবছরে যেন পাানির মূল্য আর বৃদ্ধি না করা হয় সে জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ারও আহ্বান জানাই। আর প্রতি বছর ওয়াসা যে পানির মূল্য বৃদ্ধি করে তা সঠিকভাবে যাচাই-বাছাই করা হয় না। তাই মূল্য বাড়ানোর প্রক্রিয়াও সংশোধনের দাবি জানান তিনি। অন্যদিকে পানির বিল বাড়ানো প্রসঙ্গে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তাকসিম এ খান জানান, পানির এ মূল্যবৃদ্ধি করোনা ভাইরাসের আগেই করা হয়েছে। কার্যকর করা হয়েছে ১ এপ্রিল থেকে। তবে সারচার্জ নেয়া হচ্ছে না।

Comments are closed.

     More News Of This Category

follow us on facebook page

error: sorry please