28th, July, 2021, 1:48 pm

নানা জটিলতায় থমকে আছে ব্লু ইকোনমির সুফল

নিজস্ব প্রতিনিধি : প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমা নিষ্পত্তি হলেও  নানা জটিলতায় প্রায় ৬ বছরেও ব্লু ইকোনমির কোনো সুফল মিলছে না। তবে ধীরে ধীরে কিছুটা হলেও মৎস্য খাতে তা অর্জিত হচ্ছে। নতুন অনুসন্ধানী জাহাজ আসার পর বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশ সীমায় মৎস্য ভান্ডারে মজুদের তথ্য সংগৃহীত হয়েছে। কিন্তু অন্য খাতগুলোতে সুফল নেই বললেই চলে। সমুদ্র অর্থনীতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে ব্লু ইকোনমি সেল গঠিত হয়েছে। তাছাড়া সংশ্লিষ্ট সবক’টি মন্ত্রণালয়ে আলাদা আলাদা বব্লু ইকোনমি সেল গঠন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় ছাড়াও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে রয়েছে মেরিন এ্যাফেয়ার্স ইফনিট, খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে রয়েছে আলাদা একটি ইউনিট।

অধিকাংশ মন্ত্রণালয়ে এ ধরনের ইউনিট করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞ এবং ব্লু ইকোনমি সেল সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। বিগত২০১৭ সালের শুরুতে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ব্লু ইকোনমি কেন্দ্রিক সম্ভাবনা কাজে লাগাতে ২৫ মন্ত্রণালয় এবং সংস্থার সমন্বয়ে স্বতন্ত্রভাবে ব্লু ইকোনমি সেল গঠন করা হয়। ওই সেল সমুদ্র সম্পদ আহরণে গবেষণার ওপর জোর দিলেও সবই ধীর গতিতে চলছে। ব্লু ইকোনমির ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত শুধু মালয়েশিয়া থেকে একটি অনুসন্ধানী জাহাজ কিনে আনা হয়েছে। ওই জাহাজ ইতিমধ্যে প্রায় টানা ৩ বছর অনুসন্ধান চালিয়ে দেশের সমুদ্র এলাকার মৎস্য ভান্ডারের মজুদের তথ্য সংগ্রহ করেছে। অনুসন্ধানী ওই জাহাজটি পুরো সমুদ্র এলাকার তথ্য সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছে। নতুন পুরনো এলাকা মিলে মৎস্য মজুদ থাকার তথ্যও পেয়েছে।

কিন্তু দেশের বিরাট সমুদ্র সীমায় লিভিং সোর্সের মাধ্যমে টুনা জাতীয় মাছ এখনো আহরণ করা সম্ভব হয়নি। আর নন-লিভিং সোর্সের মাধ্যমে তেল, গ্যাস এবং অন্যান্য খনিজ সম্পদের বিশাল সম্ভার রয়েছে। সমুদ্র অর্থনীতি নিয়ে দেখা নতুন স্বপ্ন এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরেই রয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক আদালতের রায়ে মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমা নির্ধারণ হওয়ায় ২০০ নটিকেল মাইলের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের কর্তৃত্ব পায় বাংলাদেশ। তার পাশাপাশি চট্টগ্রাম উপকূল থেকে ৩৫৪ নটিকেল মাইল পর্যন্ত মহিসোপানে অবস্থিত সব ধরনের প্রাণিজ ও অপ্রাণিজ সম্পদের ওপর সার্বভৌম প্রতিষ্ঠার অধিকার পায়। ফলে সমুদ্র সম্পদ নির্ভর নীল অর্থনীতির অপার সম্ভাবনার দুয়ার উন্মুক্ত হয়েছে।

যাতে উপকূলসহ গোটা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে পর্যটন, কর্মসংস্থান, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ অবকাঠামোসহ সম্ভাবনাময় সেক্টরসমূহের উন্নয়নে ইতিবাচক পরিবর্তন আসার কথা। যাতে সার্বিকভাবে জিডিপি বৃদ্ধি পাবে, সৃষ্টি হবে বৃহৎ কর্মসংস্থানের। বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে বিভিন্ন সভা-সেমিনারে ব্লু ইকোনমির কারণে দেশের চেহারা পাল্টে যাওয়ার ধারণা আগেই প্রকাশ হয়েছে। এদিকে বিশেষজ্ঞদের মতে, সমুদ্রের বয়সের কমবেশি ৫শ’ কোটি বছর। পৃথিবীর উপরিভাগের প্রায় ৭০ দশমিক ৮ শতাংশ জুড়ে আছে সাগর বা বিশ্ব সমুদ্র। সমুদ্র জয়ের ঘটনার পর বাংলাদেশ ১ লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটারের বেশি সামুদ্রিক এলাকায় সম্পদ আহরণের কার্যক্রম চালানোর সুযোগ পেয়েছে।

ফলে স্বাভাবিকভাবেই সমুদ্র সম্পদ বাংলাদেশের অর্থনীতির উন্নয়নে বিরাট ভূমিকা রাখবে। সমুদ্র সম্পদের যথাযথ ব্যবহারের জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ২ ডিজিটে উন্নীত করা সম্ভব। তবে সমুদ্র জয়ের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সমুদ্র সম্পদে যে সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন হয়েছে তার সঠিক ও যথাযথ ব্যবহার এখনো শুরু হয়নি। অথচ এটাই সবচেয়ে বেশি জরুরি। আর ব্লু ইকোনমি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ডেল্টা প্ল্যান আরো বিস্তৃত করা সম্ভব। অন্যদিকে আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই ও উন্নয়নের জন্য সামুদ্রিক সম্পদে অনুসন্ধান ও সংরক্ষণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। কিন্তু সময় দ্রুত অতিবাহিত হলেও ব্লু ইকোনমি থেকে সুফলের দুয়ার এখনো খুলেনি। সেক্ষেত্রে সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় ব্লু ইকোনমিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু ওই হিসেবে সকল কার্যক্রম অতি ধীরগতিতে এগোচ্ছে। ফলে ব্লু ইকোনমির সুফলপ্রাপ্তির বিষয়টিও ক্রমশ পিছিয়ে যাচ্ছে। এ প্রসঙ্গে দেশের ব্লু ইকোনমির পথিকৃৎ খ্যাত এ্যাডমিরাল এম খুরশিদ আলম ইতিমধ্যে বিভিন্ন সেমিনারে জানিয়েছেন, বাংলাদেশের ব্লু ইকোনমি কেন্দ্রিক অর্থনীতি হচ্ছে জাহাজ নির্মাণ শিল্প, কোস্টাল শিপিং, পরিবেশবান্ধব জাহাজ শিল্প, সমুদ্র বন্দর, মৎস্য সম্পদ, সামুদ্রিক জলজ প্রাণীর চাষাবাদ, সামগ্রিক জৈব প্রযুক্তির ব্যবহার, সামুদ্রিক লবণ উৎপাদন, সামুদ্রিক নবায়নযুক্ত শক্তির ব্যবহার, তেল, গ্যাস ও অন্যান্য সামুদ্রিক খনিজ সম্পদ অনুসন্ধান, সামুদ্রিক পর্যটনের বিভিন্ন খাত, সমুদ্র অর্থনীতি কেন্দ্রিক মানবসম্পদ উন্নয়ন প্রভৃতি।

Please share this news ..
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Comments are closed.

     More News Of This Category

follow us on facebook page