10th, December, 2022, 5:05 am

নগরীর বিভিন্ন এলাকায় তীব্র পানি সঙ্কট

নিজেস্ব প্রতিনিধি : রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার মানুষ তীব্র পানি সঙ্কটে ভুগছে। করোনা প্রাদুর্ভাব আর গরমের মধ্যে পানি সঙ্কটে বিভিন্ন এলাকার নগরবাসীর দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। বর্তমানে ঢাকা শহরে পানির চাহিদা ২৩০ থেকে ২৪০ কোটি লিটার। আর ঢাকা ওয়াসার এখন উৎপাদন সক্ষমতা ২৭৫ কোটি লিটার। সারপ্লাস পানি উৎপাদনেও কিছু কিছু এলাকার পানি সমস্যা দূর হচ্ছে না। সেক্ষেত্রে ওয়াসা সংশ্লিষ্টরা বলছে, বিদ্যুৎ না থাকার কারণেও পানি সরবরাহ দিতে কিছুটা সমস্যা হয়। তাছাড়া এই মুহূর্তে নগরীতে একশ’র ওপরের পানির পাম্প নষ্ট হয়ে রয়েছে। যে কারণে কিছু কিছু এলাকায় পানি সমস্যা হচ্ছে। বর্তমানে মিরপুর শেওড়াপাড়া, মগবাজারের কিছু অংশ, পুরান ঢাকায় ওয়াসার নতুন পাইপ বসানো হচ্ছে। ওই কারণেও পানি সরবরাহে কিছু সমস্যা রয়েছে। ঢাকা ওয়াসা সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। করোনার মহা দুর্যোগেও রাজধানীর মগবাজার, পেয়ারাবাগ এলাকায় গত কয়েকদিন ধরে পানি নেই। ওই এলাকায় এক গাড়ি পানি কিনতে ৩ থেকে ৪ দিন আগে লাইন দিতে হচ্ছে। তাও আবার বড় অঙ্কের বখশিশ না দিলে পানির গাড়ি বাড়ি পর্যন্ত আসতে নানা টালবাহানা করে। এমন অবস্থায় অনেকে পানি ও বখশিশের টাকা আগে দিয়ে পানি কিনতে বাধ্য হচ্ছে। তাছাড়া মিরপুর এলাকার জন্য সাভারের তেঁতুলঝোড়া থেকে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। আর পদ্মা নদী থেকে আসছে পুরান ঢাকার পানি। তারপরও ওয়াসা যে পরিমাণ পানি উৎপাদন করছে তা সরবরাহ ব্যবস্থা পুরনো হওয়ার কারণে পুরোপুরি সরবরাহ দেয়া যাচ্ছে না। পানি না পাওয়া এলাকার বাসিন্দারা ওয়াসার বিভিন্ন পর্যায়ের যোগাযোগ করেও পানি সমস্যার সমাধান করতে পারছে না। এমনকি পানি পেতে অনেকে পানির সমস্যার বিষয়ে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রীর কাছেও ফোনে তাদের দুর্ভোগের কথা জানিয়েছেন। এর বিপরীতে ওয়াসা কর্তৃপক্ষ বলছে, এগুলো তো খুবই ছোট ছোট সমস্যা। সেজন্য মন্ত্রী পর্যন্ত যাওয়ার দরকার নেই। ওয়াসার হট নম্বরে ১৬১৬২ ফোন করেই জানালেই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হয়। কিন্তু ভুক্তভোগীরা বলছেন, ওয়াসার হট নম্বরে ফোন থেকে শুরু ওয়াসার অফিসে ভিড় করেও কোন ফল পাওয়া যাচ্ছে না। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ওয়াসার কর্মকর্তা-কর্মচারী ভুক্তভোগীদের মানুষই মনে করে না। বরং তারা যা খুশি তাই ব্যবহার করে। এমনকি পানির সমস্যার বিষয়ে খোদ মন্ত্রীর নির্দেশও পালিত হচ্ছে না। বরং করোনা আতঙ্কে ওয়াসায় জনবল অর্ধেকে নেমে এসেছে। কিন্তু যারা পানির পাম্প পরিচালনা করে তারা আবার ঠিকই ‘ওভারটাইমের’ টাকা তুলে নিয়ে যাচ্ছে। ওই টাকা মূল বেতনের কয়েক গুণ বেশি।  অভিযোগ উঠেছে পানির বড় বড় প্রকল্প হাতে নিয়ে কয়েক দফা মেয়াদ বাড়িয়ে এক শ্রেণীর কর্মকর্তার পকেট ভারি হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীকে দিয়ে পদ্মার যশলদিয়া থেকে যে পানি ঢাকায় আনার প্রকল্প উদ্বোধন করা হয়েছে- ওই প্রকল্প থেকে মাত্র ৫ কোটি লিটার পানি ঢাকায় আসছে। অথচ উদ্বোধনের সময় বলা হয়েছিল ১৫ কোটি লিটার সরবরাহ করা হবে। পর্যায়ক্রমে ওই প্রকল্প থেকে ৪৫ কোটি লিটার পানি ঢাকায় আসবে। কিন্তু বাস্তবে ওই প্রকল্প বাস্তবায়ন একটি শুভঙ্করের ফাঁকি। সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে প্রকল্পটি কাজ করা হয়েছে। এখনো প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। তিন দফা কাজের মেয়াদ বাড়ানোর পরেও এখনো কেরানীগঞ্জে পূর্ণাঙ্গ রিজার্ভার তৈরি হয়নি। একইভাবে সাভারের তেঁতুলঝোড়া রিজার্ভার থেকেও ৫ কোটি লিটার পানি সরবরাহ দেয়া হচ্ছে। অথচ সেখান থেকে ১৫ কোটি লিটার পানি আসার কথা ছিল। করোনা পরিস্থিতিতে মন্ত্রণালয় থেকে কঠোর চিঠি দেয়া হয়েছে-মহামারী পরিস্থিতিতে যাতে মানুষের পানির কোন সমস্যা না হয়। কিন্তু আদতে মন্ত্রণালয়ের ওই চিঠির কোনো গুরুত্বই দেয়া হচ্ছে না। এদিকে ভুক্তভোগী নগরীর উত্তরা, মোহাম্মদপুর, রাজাবাজার, সূত্রাপুরসহ বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, তারা বিভিন্ন সময় পানি নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। ওয়াসা অফিসে গিয়েও নানা ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। অন্যদিকে পানি সঙ্কটের কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা নগরীর বিভিন্ন এলাকার পাইপ লাইনের ত্রুটি হিসেবে দেখছেন। কোন প্রকার বিজ্ঞানভিত্তিক পাইপলাইন স্থাপন না করে যেভাবে খুশি মাটির নিচে পাইপ বসানো হয়েছে। আর তা কতটা কার্যকর তা দেখার কোন প্রয়োজন মনে করে না কর্তৃপক্ষ। ফলে বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন সময় পানির সঙ্কট দেখা দেয়। নগরীর পানি ব্যবস্থাপনা ত্রুটি দূর করতে পারলে পানি সমস্যা অর্ধেকে নেমে আসবে। পানি ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞরা পানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে একটি একক নেটওয়ার্কে আনার পরামর্শ দিয়েছেন। তাদের মতে, পুরো শহরকে একটি নেটওয়ার্কের আওতায় নিয়ে আসা জরুরি। পাশাপাশি কোথাও সমস্যা হলে যাতে অন্যত্র থেকে পানি সরবরাহ করা যায় তেমন ব্যবস্থা করতে হবে। তাহলেই নগরবাসী পানির সমস্যায় ভুগবেন না। নাগরিক ভোগান্তি তৈরি হয় এমন কোন প্রকল্প বাস্তবায়ন করে সরকারের টাকার অপচয় করাও বন্ধ করা জরুরি। নগরীর পানি ব্যবস্থাপনার বিষয়ে ভাবনা চিন্তা করে পদক্ষেপ নিতে হবে। এখানে নগর পরিকল্পনাবিদদের পরামর্শ নেয়া প্রয়োজন রয়েছে। মহানগরীর পানি সঙ্কট প্রসঙ্গে ওয়াসার এমডি তাকসিম এ খান জানান, নগরীতে পানির কোন সমস্যা নেই। কয়েকটি পকেট সমস্যা থাকলেও থাকতে পারে। সেগুলো সঙ্গে সঙ্গে ঠিক করে দেয়া হচ্ছে। ওয়াসার হট নম্বরে অভিযোগ করলেই সমাধান করা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে মন্ত্রী তাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, কোন অবস্থাতেই পানির সঙ্কট তৈরি করা যাবে না। বিষয়টি ওয়াসাকে লিখিতভাবে জানিয়ে দেয়া হয়েছে। এমনকি ওয়াসার কোন কোন কর্মকর্তা ও কর্মচারী ছুটি পাবেন না। করোনা মহামারী পরিস্থিতিকালীন পানির মতো জরুরি সেবা অব্যাহত রাখার জন্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

Comments are closed.

     More News Of This Category

follow us on facebook page

error: sorry please