7th, December, 2022, 1:53 am

ডালের দাম বাড়াচ্ছে অসাধু ব্যবসায়ীরা চক্র

মীর আলাউদ্দিন : দেশে পর্যান্ত পরিমাণ ডালের আমদানি ও মজুদ রয়েছে। করোনা ভাইরাসের প্রভাবে ঘরবন্দি মানুষের ডালের চাহিদা বেড়েছে। আর চাহিদা বাড়ার এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বাড়তি মুনাফার লোভে পণ্যটির দাম বাড়িয়ে চলেছে অসাধু ব্যবসায়ী চক্র। চাহিদার বিপরীতে পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও কয়েকদিনে বিভিন্ন ধরনের ডালের দাম কেজিতে ১৫-২০ টাকা বেড়েছে। পাইকারী বাজার সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, দেশে ভোগ্যপণ্যের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের বিভিন্ন আড়তে এখন কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া থেকে আমদানি করা তুলনামূলক মোটা মসুর ডাল কেজিপ্রতি ৭২-৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ ১০ দিন আগেও পণ্যটির দাম ছিল কেজিপ্রতি সর্বোচ্চ ৫৫ টাকা। মূলত মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষের কাছে এ ডালের চাহিদা বেশি। আর এখানকার বাজারে তুলনামূলক চিকন মসুর ডাল কেজিপ্রতি ১১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পণ্যটির দাম বেড়েছে কেজিতে ১৫ টাকা। তাছাড়া চিকন মুগ ডালের দাম ২০ টাকা বেড়ে কেজিপ্রতি ১৪৫ টাকায় উঠেছে। মোটা মুগ ডাল কেজিপ্রতি ১৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ পণ্যটির দাম বেড়েছে কেজিতে ২০ টাকা। তাছাড়া ডাবলি ডাল (মটর ডাল) কেজিপ্রতি ৬ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৩৮-৪০ টাকায় আর ছোলা বিক্রি হয় মণপ্রতি ২ হাজার ৩৫০ টাকায়। দাম বেড়েছে মণে ২০০ টাকা। সূত্র জানায়, রোজার আগে দেশীয় আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা বাড়তি চাহিদার বিষয়টি মাথায় রেখে বিভিন্ন ধরনের ডালের আমদানি ও মজুদ বাড়িয়ে রাখে। এবারও তাই করা হয়েছে। এরই মধ্যে শুরু হয়েছে নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ। ফলে ঘরবন্দি মানুষ বেশি পরিমাণে ডাল কিনেছে। ত্রাণের জন্যও বাড়তি ডাল কেনা হয়েছে। তাই চাহিদায় আকস্মিক ঊর্ধ্বগতি চাঙ্গা করেছে পণ্যটির দাম। তবে পর্যাপ্ত আমদানি ও মজুদ সত্ত্বেও দাম বেড়ে যাওয়াকে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ইচ্ছাকৃত বলছে। যদিও পাইকারী ব্যবসায়ীরা একথা মানতে নারাজ। তাদের মতে, সবকিছু বন্ধ থাকায় সরবরাহ ও উৎপাদন প্রক্রিয়ায় সংকট দেখা দিয়েছে। পর্যাপ্ত মজুদ থাকলেও চাহিদা অনুযায়ী সারা দেশে পণ্য পৌঁছাতে বিলম্ব হচ্ছে। ইচ্ছাকৃতভাবে দাম বাড়ানোর কোনো ঘটনা ঘটেনি। আর দাম অস্বাভাবিকভাবেও বাড়েনি। সূত্র আরো জানায়, রোজা সামনে রেখে দেশের বাজারে ডাল আমদানি এবারো বেড়েছে। চট্টগ্রাম কাস্টমসের আমদানি তথ্যানুযায়ী ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথম ৮ মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) দেশে ৩ ধরনের ডাল আমদানি হয়েছিল ৪ লাখ ৮৭ হাজার ৮১৭ টন। আর চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথম আট মাসে একই ধরনের ডাল আমদানি হয়েছে ৬ লাখ ৫৪ হাজার ৫৩৯ টন, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৩৪ শতাংশ বেশি। তার মধ্যে দেশে মসুর ডালের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথম ৮ মাসে দেশে মসুর ডাল আমদানি হয়েছিল ২ লাখ ১৩ হাজার ১৭৭ টন। চলতি অর্থবছরের একই সময়ে আমদানি হয়েছে ২ লাখ ৫৪ হাজার ২৪২ টন মসুর ডাল। বাড়তি আমদানি সত্ত্বেও চাহিদার আকস্মিক উল্লম্ফন পণ্যটির দাম বাড়িয়েছে বলে আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা দাবি করছেন।

Comments are closed.

     More News Of This Category

follow us on facebook page

error: sorry please