11th, August, 2022, 9:04 am

ডাক্তার সাইনবোর্ডে ব্যবহার করছে ভুয়া ডিগ্রী

নিজেস্ব প্রতিবেদক :  দেশের অনেক প্রকৃত ডাক্তারও ভুয়া ডিগ্রী ব্যবহার করে রোগীদের সঙ্গে প্রতারণা করে যাচ্ছে। আর সাইনবোর্ড, প্রেসক্রিপশন প্যাড, ভিজিটিং কার্ড ইত্যাদিতে ‘বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক’ লেখা দেখে চিকিৎসা করাতে গিয়ে প্রত্যাশিত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা। ভুয়া ডিগ্রীধারী ডাক্তাররা দেশজুড়েই দাঁপিয়ে বেড়াচ্ছে। কিন্তু তা নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেই। স্বীকৃত পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন ডিগ্রী না থাকা সত্ত্বেও কেউ কেউ নিজেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দিয়ে যাচ্ছে। যা বাংলাদেশ মেডিক্যাল এ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) আইনের পরিপন্থী ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আর আর এ ব্যাপারে বিএমডিসির পক্ষ থেকে বারবার সতর্ক করে দেয়ার পরও এ সমস্যা দূর হচ্ছে না। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবং বিএমডিসি সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, ন্যূনতম এমবিবিএস অথবা বিডিএস পাস না করেও অনেকে তাদের নামের আগে ডাক্তার পদবি ব্যবহার করে যাচ্ছে। তাতে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা। পাশাপাশি ভুল চিকিৎসার শিকার হয়ে অনেক রোগীই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে। একের পর এক সতর্কীকরণ বার্তা দিয়েও ভুয়া ডিগ্রী ব্যবহার বন্ধ করতে পারছে না বাংলাদেশ মেডিক্যাল এ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল। বরং স্বীকৃত ডিগ্রীপ্রাপ্ত অনেকেই বাংলাদেশ মেডিক্যাল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের নিবন্ধন ছাড়া চিকিৎসা কার্য পরিচালনা করছে। কোন কোন নিবন্ধিত চিকিৎসক/ দন্ত চিকিৎসক তাদের সাইনবোর্ড, প্রেসক্রিপশনের প্যাড, ভিজিটিং কার্ড ইত্যাদিতে পিজিটি, এফসিপিএস (পার্ট-১,২), এমডি (ইন কোর্স, পার্ট-১,২, থিসিস পর্ব), এম,এস (পার্ট-১,২, থিসিস পর্ব, সিসি) ইত্যাদি ব্যবহার করছে, যা কোন স্বীকৃত অতিরিক্ত চিকিৎসা যোগ্যতা নয়। তাছাড়া স্বীকৃত পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন ডিগ্রী না থাকা সত্ত্বেও কেউ কেউ মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, সার্জারি বিশেষজ্ঞ, গাইনি বিশেষজ্ঞ, শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ, চক্ষু বিশেষজ্ঞ ইত্যাদি ব্যবহার করছে। আবার কোন কোন চিকিৎসক তাদের ব্যবস্থাপত্রে এমন কিছু ওষুধ লিখেন, যা নিষিদ্ধ। সূত্র জানায়, বিএমডিসির ২২(১) ধারা অনুযায়ী নিবন্ধন ছাড়া এলোপ্যাথি চিকিৎসা নিষিদ্ধ। অন্য কোন আইনে যা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের অধীনে নিবন্ধন ছাড়া কোন মেডিক্যাল চিকিৎসক বা ডেন্টাল চিকিৎসক এলোপ্যাথি চিকিৎসা করতে অথবা নিজেকে মেডিক্যাল চিকিৎসক, ক্ষেত্রমতে ডেন্টাল চিকিৎসক বলে পরিচয় দিতে পারেন না। কোন ব্যক্তি এই ধারা লঙ্ঘন করলে তা হবে একটি অপরাধ এবং এর জন্য তিনি ৩ বছর কারাদ- অথবা ১ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদ- অথবা উভয় দ-ে দ-নীয় হবেন। আর ২৯(১) ধারা অনুযায়ী ভুয়া পদবি, ইত্যাদি ব্যবহার নিষিদ্ধ। এই আইনের অধীন নিবন্ধনকৃত কোন মেডিক্যাল চিকিৎসক বা ডেন্টাল চিকিৎসক এমন কোন নাম, পদবি, বিবরণ বা প্রতীক ব্যবহার বা প্রকাশ করবেন না, যার ফলে তার কোন অতিরিক্ত পেশাগত যোগ্যতা আছে মর্মে কেউ মনে করতে পারে। যদি না তা কোন স্বীকৃত মেডিক্যাল চিকিৎসা-শিক্ষা যোগ্যতা বা স্বীকৃত ডেন্টাল চিকিৎসা শিক্ষা যোগ্যতা হয়ে থাকে। তাছাড়া ন্যূনতম এমবিবিএস অথবা বিডিএস ডিগ্রীপ্রাপ্তরা ছাড়া অন্য কেউ তাদের নামের আগে ডাক্তার পদবি ব্যবহার করতে পারবে না। কোন ব্যক্তি এই উপধারা লঙ্ঘন করলে তা হবে একটি অপরাধ এবং তার জন্য তিনি ৩ বছর কারাদ- বা ১ লাখ টাকা অর্থদ- অথবা উভয় দন্ডে দন্ডনীয় হবেন। অপরাধ অব্যাহত থাকলে প্রত্যেকবার তার পুনরাবৃত্তির জন্য অন্যূন ৫০ হাজার টাকা অর্থ দ-ের অতিরিক্ত হিসেবে দন্ডনীয় হবেন। সূত্র আরো জানায়, দেশের সর্বত্র চলছে বিএমডিসি আইনের লঙ্ঘন। স্বীকৃত চিকিৎসা থেকে ডাক্তার হয়েও অনেকে ভুয়া ডিগ্রী ব্যবহার করে। নামের আগে ভুয়া ডিগ্রী লাগিয়ে রোগীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করাই এ ধরনের চিকিৎসকদের মূল উদ্দেশ্য। তারা রোগীদের ভাল-মন্দ বিবেচনায় রাখে না। বরং চিকিৎসাসেবা তাদের কাছে রোগী মেরে টাকা আয়ের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। তাছাড়া স্বীকৃত চিকিৎসকদের পাশাপাশি অস্বীকৃত কোয়াক চিকিৎসকদের সংখ্যাও দেশে কম নয়। তারা চিকিৎসা সেক্টরের জন্য বেশ হুমকিস্বরূপ। দেশে রয়েছে প্রায় আড়াই লাখ কোয়াক চিকিৎসক। এ ধরনের চিকিৎসকদেও থাকে না কোন প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রী এবং অভিজ্ঞতা। কোন চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান বা অভিজ্ঞ ব্যক্তির সংস্পর্শে এসে তারা কিছু চিকিৎসাজ্ঞান অর্জন করে। সেই সীমিত জ্ঞান দিয়ে তারা নিজেদের মতো করে চিকিৎসাসেবা দিয়ে যায়। তাতে অনেক রোগী ভুল চিকিৎসার শিকার হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। সরকারি অনুমোদন না থাকলেও এ ধরনের চিকিৎসকরা দেশের আনাচে-কানাচে চিকিৎসাবাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। এ ধরনের চিকিৎসকেরা প্রাইভেট মেডিক্যাল প্র্যাক্টিশনার্সের মধ্যেও পড়ে না। দেশে বেসরকারি চিকিৎসাসেবা আইন না থাকায় কোয়াক চিকিৎসকেরা নিজেদের বিভিন্ন পরিচয়ে চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এ প্রসঙ্গে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. রশিদী-ই-মাহবুব জানান, স্বাস্থ্য সেক্টরে দুর্বল মনিটরিংয়ের জন্য স্বাস্থ্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দায়ি। কেউ কারোর দায়িত্ব ঠিকমতো পালন করে না। দেশে ভুয়া ডিগ্রীর অভাব নেই। টাকা দিলেই ডিগ্রী পাওয়া যায়, যা অদক্ষ চিকিৎসক সৃষ্টিতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

     More News Of This Category

follow us on facebook page