10th, December, 2022, 12:22 pm

জানা যায়নি হাজার হাজার পাখি মরার কারণ

প্রান্তরজুড়ে হাজার হাজার পাখি মরে পড়ে আছে। যার বেশিরভাগই ভিনদেশি। পৌষ আসতে না আসতেই শীতপ্রধান দেশগুলো থেকে সহস্র মাইল পাড়ি দিয়ে খাবারের খোঁজে এসেছে পাখিগুলো। কিন্তু যে জীবন তারা বাঁচাতে এসেছিল তা আর নেই। পিঞ্জরা ছেড়ে উড়ে গেছে, পড়ে আছে তাদের নিথর দেহগুলো। ভারতীয় টেলিভিশন এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকারি হিসাব মতে রাজস্থানের সম্ভার হ্রদ ও সংলগ্ন এলাকায় গত সোমবার থেকে আজ রোববার পর্যন্ত দশ হাজারেরও বেশি পাখির মৃত্যু হয়েছে। দেশটির সর্ববৃহৎ নোনা পানির এই হ্রদটি প্রাদেশিক রাজধানী জয়পুরের অদূরেই অবস্থিত।একসঙ্গে এত পাখির মৃত্যুর সঠিক কারণ অবশ্য এখনও জানা যায়নি। তবে ‘এভিয়ান বচুলিজ়ম’ নামক রোগে আক্রান্ত হয়েই পাখিগুলোর মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তের পর ধারণা করছেন ভারতের বন দফতরের কর্মকর্তারা। মূলত বিষাক্ত খাবার পেটে গেলেই পাখিরা এই রোগে আক্রান্ত হয়।সম্ভার হ্রদে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর ৭০ সদস্যের একটি দল পাঠানো হয়েছে। অন্য পাখির শরীরে এই রোগ যেন বাসা বাঁধতে না পারে, তার জন্য মৃত পাখিগুলো অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার কাজ শুরু করেছেন তারা। এছাড়া পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে দেশটির পশুপালন বিভাগের একাধিক কর্মকর্তাও সেখানে পৌঁছেছেন। অনেকের দাবি, হ্রদের নোনাজল অতিরিক্ত দূষিত হওয়াতেই এই মৃত্যুমিছিল। কিন্তু এখনও নিশ্চিত করে কিছুই জানা যায়নি। এদিকে পাখিগুলোর মরদেহ পরীক্ষা করে মধ্যপ্রদেশের এক ল্যাবরেটরি ‘এভিয়ান বচুলিজ়ম’ রোগে আক্রান্ত হয়ে পাখিগুলোর মৃত্যু হয়েছে বলে যে ধারণা করা হচ্ছে তা খরিজ করে দিয়েছে। জয়পুরের ওই হ্রদটি অতিথি পাখির আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত। বুধবার রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গহলৌত বলেন, হ্রদ সংলগ্ন এলাকায় এত পাখির মৃত্যুর ঘটনা সত্যিই উদ্বেগজনক। উদ্ভিদ ও প্রাণীদের রক্ষা করা তার সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার বলেও জানিয়েছেন তিনি। গত সোমবার সেখান থেকে প্রথমে ৭১৬টি মৃত পাখি উদ্ধার করা হয়। পরদিন হ্রদের পানি থেকে উদ্ধার করা হয় আরও ১ হাজার ৬২২টি মৃত পাখি। এরপর বুধবার ১ হাজার ৯২২টি, পরদিন ৫৪০টি এবং শুক্রবার সর্বোচ্চ ৩ হাজার ২৬৫টি মৃত পাখি উদ্ধার হয়। শনিবারও উদ্ধার হয়েছে অসংখ্য পাখির মরদেহ। মৃত পাখিগুলোর মধ্যে নর্দার্ন শোভেলার, রাডি শেলডাক, প্লোভার্স, অ্যাভোচেটজ, ব্ল্যাকউইংসহ নানা প্রজাতির পাখি রয়েছে। শীত শুরু হতে না হতেই খাবারের খোঁজে প্রতি বছরই সম্ভার নামের ওই হ্রদে কয়েক লক্ষ পাখি আসে। কিন্তু এর আগে কখনো এমন ঘটনা ঘটেনি সেখানে। স্থানীয় বাসিন্দারা পাখিগুলোর মৃত্যুর জন্য রাজ্য প্রশাসনকে দায়ী করেছেন। তারা বলছেন, দ্রুতই বিষয়টি জানানো হলেও প্রথম দুদিন কোনও রকমের পদক্ষেপ নেয়নি রাজ্য প্রশাসন। পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী পাঠানো হলেও তারা এই মৃত্যুমিছিল থামাতে পারেনি।গত শুক্রবার পাখির মৃত্যুসংখ্যা তিন হাজার ছাড়িয়ে যায়। স্থানীয়রা বলছেন, সরকারি হিসাবে মৃত পাখির সংখ্যা দশ হাজার বলা হলেও প্রকৃতই এই সংখ্যাটা আরও অনেক বেশি। এদিকে সমালোচনার মুখে বিষয়টি তদন্ত করার আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী অশোক গহলৌত।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

     More News Of This Category

follow us on facebook page

error: sorry please