9th, August, 2022, 11:43 am

খালেদা জিয়াকে আদালতের সিদ্ধান্ত মানতেই হবে : আইনমন্ত্রী

আদালতের সিদ্ধান্ত মানতেই হবে : আইনমন্ত্রী

নিজেস্ব প্রতিবেদক : আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, আপিল বিভাগের ছয়জন বিচারপতি নিশ্চয়ই যথেষ্ট বিবেচনা করেই খালেদা জিয়ার জামিন না দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। তিনি বলেন, আমরা যেহেতু আইনের শাসনে বিশ্বাস করি, তাই আমাদেরকে আদালতের সিদ্ধান্ত মানতেই হবে। খালেদা জিয়ার চিকিৎসার ব্যাপারে আদালত যে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন তার আলোকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল (বিএসএমএমইউ) এর কিছু করণীয় থাকলে তারা তা নিশ্চয়ই করবেন। বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন আইনমন্ত্রী। আইনমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘কোনো রায়ে বা প্রতিবেদনে যত যুক্তিই থাকুক বিপক্ষে গেলে ওনারা (বিএনপি) অভ্যাসগতভাবে বলেন, এটা ঠিক না। ছয়জন ডাক্তার পরীক্ষা করে সর্বোচ্চ আদালতে প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। তাই এ ব্যাপারে সন্দেহ ওনারা করতে পারেন, আমি করি না। মন্ত্রী বলেন, ‘ওনারা খালেদা জিয়ার জামিন চেয়েছিলেন মেডিক্যাল গ্রাউন্ডে। মেডিক্যাল রিপোর্ট দেখে সর্বোচ্চ আদালত সিদ্ধান্ত দিয়েছেন যে, খালেদা জিয়াকে জামিনে অন্য কোথাও চিকিৎসা করানোর প্রয়োজন নেই। বিএসএমএমইউ-তে যে চিকিৎসা হচ্ছে সেটাই যথেষ্ট। আদালতে মেডিক্যাল রিপোর্ট ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে আনিসুল হক বলেন, ‘ওনাদের পছন্দমত যেটাই হবে না সেটাই ভুল হবে। আর ওনাদের পছন্দ মত যদি অন্যায় কিছু হয় সেটাই সঠিক হবে। তাই ওনাদের কথার ওপরে নির্ভর করে তো কেউ সিদ্ধান্ত দিবেন না। যে কাগজপত্র দাখিল করা হয়েছে, সর্বোচ্চ আদালত নিশ্চয়ই সেটা দেখেই সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। আমি যেহেতু আইনের শাসনে বিশ্বাস করি, তাই সর্বোচ্চ আদালত যে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন সেটাই আমাকে মেনে নিতে হবে।’

রোহিঙ্গা ইসু

রোহিঙ্গা ইস্যুতে সরাসরি ক্ষতির শিকার বাংলাদেশ, সেখানে গাম্বিয়া কেন মামলা করেছে- জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার বিশ্বাস করে পরস্পর আলোচনার মাধ্যমে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মায়ানমারে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে হবে। এর মধ্যেই গাম্বিয়া আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিজে) একটি মামলা করেছে। সবাই বলছেন, আইসিজে’র এখতিয়ার খুব প্রসারিত। আসলে তা নয়, এর এখতিয়ার সীমাবদ্ধ। কিন্তু তারপরও এই মামলার একটি তাৎপর্য আছে। তার কারণ মায়ানমারে যে ঘটনা ঘটেছে সেটা আইসিজে’র বিচারপতিগণ দেখবেন এবং তারা দুই পক্ষের বক্তব্য শুনবেন। রাখাইন রাজ্যে যে নৃশংসতা হয়েছে তা সারা বিশ্বকে গভীরভাবে অনুধাবন করার জন্য এবং প্রচার করার জন্য আইসিজে এর ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। মায়ানমারে গণহত্যা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আইসিজে -এর রায়ের উপর নির্ভর করবে বাংলাদেশ কী ফলাফল পাবে।’ আজকেই এর ফলাফল বলাটা সমীচীন হবে না বলে তিনি মনে করেন মন্ত্রী। মন্ত্রী বলেন, ‘আইজিসে -এর আদেশ বা রায়ের জন্য আমাদের একটু ধর্য্য ধরা উচিত। তাপরপরে পরবর্তী কর্মপন্থা সমন্ধে আলোচনায় যাওয়া উচিত। আইসিজে একটি স্বনামধন্য আন্তর্জাতিক আদালত। এখানে দুইপক্ষের শুনানির নিশ্চয়ই তাৎপর্য আছে, প্রভাব আছে। আমার মনে হয় সেই সবের আলোকেই আইসিজে মামলা শুনানির পরে তাদের বক্তব্য দিবে। আইসিজে-এর মুখোমুখি করানোতে মায়ানমার এর ওপর একটি চাপ তৈরি হয়েছে কিনা জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, “আপনারা দেখেছেন বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দেশ যুক্তরাষ্ট্র অত্যন্ত পরিষ্কারভাবে বলেছে যে, মায়ানমারে গণহত্যা হয়েছে এবং গণহত্যার জন্য আমরা অমুক অমুক কে দায়ী করি। সেই ক্ষেত্রে বিশ্বের অবস্থান কিন্তু খুব পরিষ্কার। আর আইসিজে হচ্ছে একটি প্রতিষ্ঠান, একটি ফোরাম। যেখানে ১৮জন বিচারপতি আছেন। তারা শুনবেন। তারা আদেশ অথবা রায় দিবেন। এই বিচারপতিদের ‘কনসিডারড ওপিনিয়ন’ সারা বিশ্বের একটি তাৎপর্যপূর্ণ মতামত হবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। আইসিজে -এর রায় বা আদেশের পর রোহিঙ্গাদের মায়ানমারে ফেরত পাঠানো সহজ হবে কিনা জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সিদ্ধান্ত হবে এই রায় বা আদেশের পরে আমরা আবার এটা বিবেচনা করবো। কিন্তু আমরা যেহেতু প্রতিবেশী এবং সকলের সাথে বন্ধুত্ব আমাদের পররাষ্ট্রনীতি তাই আমরা চেষ্টা করবো আলোচনার মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান করতে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

     More News Of This Category

follow us on facebook page